Showing posts with label Bengali. Show all posts
Showing posts with label Bengali. Show all posts

Saturday, January 31, 2026

অঘাসুর লীলা : ছদ্মবেশী বিপদ ও ভক্তির অভয়তা | মাধবম

অঘাসুর লীলা : দ্বিতীয় পর্ব

ছদ্মবেশী বিপদ ও ভক্তির অভয়তা

— আনন্দের ছদ্মবেশে আগত বিপদের মুখে শ্রীকৃষ্ণনির্ভর জীব —


(◆ প্রথম পর্বটি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন)

শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে অঘাসুর কোনো আকস্মিক আক্রমণকারী অসুর নন। তিনি উপস্থিত হন অজগরের রূপে—এমন এক ছদ্মবেশে, যা বাইরে থেকে ভয়ংকর নয়, বরং এক বিস্ময়কর গুহার মতো প্রতীয়মান হয়। এই ছদ্মবেশই অঘাসুর লীলাকে কেবল পৌরাণিক কাহিনি না রেখে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক গভীর উপমায় পরিণত করে।

অবশ্যই রক্ষিবে কৃষ্ণ, এই সরলতা ও বিশ্বাসই শরণাগতের ভক্তির পরীক্ষা

জীবনেও বহু বিপদ এভাবেই আসে—আনন্দ, নিরাপত্তা ও সুযোগের রূপ ধরে। মানুষ প্রায়শই বিপদের প্রকৃত রূপ না বুঝেই স্বেচ্ছায় তার মধ্যে প্রবেশ করে ফেলে। অঘাসুর এখানে সেই ছদ্মবেশী বিপদের প্রতীক

অঘাসুর লীলার প্রথম দিকটি আমাদের শেখায়— বিপদ সবসময় ভয়ংকর চেহারা নিয়ে আসে না।

Thursday, January 29, 2026

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অঘাসুর উদ্ধার লীলা : ভক্তির আলোকে দু’টি দিক

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অঘাসুর উদ্ধার লীলা : ভক্তির আলোকে দু’টি দিক

— শ্রীকৃষ্ণের লীলায় ছদ্মবেশী বিপদ ও পাপী জীবের মুক্তি —


ব্রজলীলার অঘাসুর পর্বকে সাধারণভাবে একটি অসুরবধের কাহিনি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণের দৃষ্টিতে এই লীলা কেবল বধের গল্প নয়— এটি এক গভীর ভক্তিতাত্ত্বিক উপাখ্যান, যেখানে একসঙ্গে প্রকাশ পায় জীবনের বাস্তবতা এবং ভগবানের অহৈতুকী কৃপা।

অঘাসুরের সারুপ্য মুক্তি: পাপী জীবের উপরও শ্রীকৃষ্ণর কৃপা

অঘাসুর এখানে হঠাৎ আক্রমণকারী কোনো অসুর নয়। সে আসে গুহার রূপ ধরে—আনন্দ ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। এই ছদ্মবেশী রূপই লীলাটিকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে দেয়।

একই সঙ্গে আমরা দেখি—এই অঘাসুরই শেষ পর্যন্ত লাভ করে অতি দুর্লভ মুক্তি, যে মুক্তির জন্য যুগ যুগ ধরে যোগী ও ভক্তেরা সাধনা করে। এই দ্বৈত বাস্তবতা—ভয়ংকর বিপদ ও পরম কৃপা— এই লীলাকে অনন্য করে তোলে।

এই ব্লগে অঘাসুর লীলাকে আমরা ভক্তির আলোকে দু'টি পৃথক কিন্তু পরস্পর সম্পর্কিত দিক থেকে দেখব—

Tuesday, November 18, 2025

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য | দামোদর ব্রত | হরি ভক্তি বিলাস | স্কন্দপুরাণ | মহাভারত | রামায়ণ

শ্রী সনাতন গোস্বামী রচিত হরি ভক্তি বিলাস — কার্তিক মাস মাহাত্ম্য (ষোড়শ বিলাস)

হরিভক্তিবিলাসে বর্ণিত কার্তিক মাস ব্রত, দীপদান, তুলসী সেবা ও হরিকীর্তনের বিধি-বিধান


শ্রী সনাতন গোস্বামী রচিত হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থে কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য কীর্তন ও দামোদর ব্রত পালনের নিয়ম

শ্রীসনাতন গোস্বামী রচিত হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থটি বৈষ্ণবগণের জন্য একটি অত্যন্ত প্রামাণিক শাস্ত্র, যা বিভিন্ন ব্রত, উৎসব, পূজা পদ্ধতি এবং মাসগুলির মাহাত্ম্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করে। এটি প্রধানত স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, ভবিষ্য পুরাণ, ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ, বিষ্ণুধর্মোত্তর পুরাণ, নারদ পুরাণ এবং শ্রীমদ্ভাগবতম্ সহ বিভিন্ন পুরাণ ও শাস্ত্র থেকে শ্লোক উদ্ধৃত করে বিধি-বিধান স্থাপন করে।

হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থে কার্তিক মাসকে বিশেষভাবে উর্জ্জ ব্রত মাস বা দামোদর মাস হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর মাহাত্ম্য অত্যন্ত উচ্চ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থে কার্তিক মাসের মহিমা বর্ণনা করতে গিয়ে বিভিন্ন পুরাণ থেকে অসংখ্য শ্লোক উদ্ধৃত করা হয়েছে।

আমি নিচে হরিভক্তিবিলাস গ্রন্থের কিছু অধ্যায় এবং সেখানে উল্লিখিত কার্তিক মাস বিষয়ক মূল বিষয়গুলির রেফারেন্স ও শ্লোকগুলি (বা শ্লোকের মূলভাব) তুলে ধরছি:

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

মহাভারত ও রামায়ণে কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য

মহাভারত ও রামায়ণের প্রেক্ষাপটে  কার্তিক মাস সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা


মহাভারতের আশ্বমেধিক পর্বে (এবং কিছু সংস্করণে অনুশাসন পর্বেও এর অংশ পাওয়া যায়), যুধিষ্ঠির এবং ভীষ্মের মধ্যে যে কথোপকথন হয়, সেখানে ধর্মতত্ত্ব, ব্রত, দান এবং বিভিন্ন মাস-তিথির মাহাত্ম্য নিয়ে আলোচনা আছে। এই আলোচনাগুলির মধ্যে কার্তিক মাসের গুরুত্ব ও তার ফল সম্পর্কেও উল্লেখ পাওয়া যায়। মহাভারতের এই অংশে ভীষ্ম, শরশয্যায় শায়িত অবস্থায় যুধিষ্ঠিরকে ধর্মোপদেশ দান করেন। এই উপদেশগুলি 'ভীষ্মোপদেশ' নামে পরিচিত। এই উপদেশগুলির মধ্যে কিছু জায়গায় কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য উঠে এসেছে, বিশেষত প্রাতঃস্নান, দান এবং বিষ্ণু পূজার প্রসঙ্গে।

মহাভারত, আশ্বমেধিক পর্ব (ভীষ্ম-যুধিষ্ঠির সংবাদ): কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য




মহাভারতের আশ্বমেধিক পর্বে (সাধারণত অধ্যায় ৯৪-৯৬ বা তার কাছাকাছি, বিভিন্ন সংস্করণে অধ্যায় সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে), ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বিভিন্ন ব্রতের ফল এবং মাসের মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে কার্তিক মাস বিশেষভাবে উল্লিখিত।

১. কার্তিক মাসের প্রাতঃস্নানের মাহাত্ম্য:

ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে বলছেন যে, কার্তিক মাসে পবিত্র নদীতে প্রাতঃস্নান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক এবং এটি সকল পাপ নাশ করে। রেফারেন্স: মহাভারত, আশ্বমেধিক পর্ব, অধ্যায় ৯৪ (অথবা ৯৫, ভীষ্মোপদেশ পর্ব)।

Monday, October 27, 2025

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

পদ্মপুরাণে বর্ণিত দামোদর মাসের মাহাত্ম্য

পুরাণে বর্ণিত ভগবান বিষ্ণুর ও ভক্তির অমৃত কাহিনী


পদ্মপুরাণ হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাপুরাণ, যা ভগবান বিষ্ণুর মাহাত্ম্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। স্কন্দপুরাণের মতোই পদ্মপুরাণও কার্তিক মাসের বিশেষ গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে। পদ্মপুরাণে, কার্তিক মাসকে "দামোদর মাস" হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই মাসে ভগবান বিষ্ণু তাঁর দামোদর রূপে পূজিত হন।

পদ্মপুরাণে কার্তিক মাস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার কিছু মূল বিষয় নিচে দেওয়া হলো:

১. সর্বশ্রেষ্ঠ মাস ও দামোদর মাস:

পদ্মপুরাণ কার্তিক মাসকে সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করে। এটি বিশেষভাবে ভগবান দামোদরের (শ্রীকৃষ্ণের শৈশব রূপ) উপাসনার মাস।

মূল শ্লোক:

"ন কার্তিকসমো মাসো ন কৃত্যং দামোদরপ্রিয়ম। ন চ বেদসমং শাস্ত্রং ন তীর্থং গঙ্গয়া সমম্॥"

Saturday, October 25, 2025

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

📜 স্কন্দপুরাণে বর্ণিত দামোদর মাসের মাহাত্ম্য

পুরাণে বর্ণিত ভগবান বিষ্ণুভক্তির অমৃত কাহিনী


স্কন্দপুরাণ হলো আঠারোটি প্রধান মহাপুরাণের মধ্যে অন্যতম একটি, এবং এটি হর-পার্বতি পুত্র কার্তিক (যিনি স্কন্দ বা মুরুগান নামেও পরিচিত) এর মাহাত্ম্য বর্ণনা করে। এই পুরাণে বিভিন্ন ব্রত, তীর্থস্থান, এবং মাসগুলির গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। কার্তিক মাস সম্পর্কেও স্কন্দপুরাণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

স্কন্দপুরাণে কার্তিক মাস-কে বিশেষভাবে পুণ্যময় মাস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এটি মূলত ভগবান বিষ্ণু এবং দেবী লক্ষ্মী-র পূজা, দীপদান, তুলসী পূজা, এবং বিভিন্ন ব্রত পালনের জন্য অত্যন্ত শুভ।

কার্তিক মাস সম্পর্কে স্কন্দপুরাণে যা বলা হয়েছে তার কিছু মূল বিষয় নিচে দেওয়া হলো:

🌿 ব্রত ও উপবাসের মাহাত্ম্য

স্কন্দপুরাণ অনুসারে, কার্তিক মাসে যারা নিয়মনিষ্ঠভাবে ব্রত পালন করেন, উপবাস করেন, বা সংযম পালন করেন, তারা বিশেষ পুণ্য লাভ করেন। এই মাসে করা সামান্য পুণ্যকর্মও অনেক বেশি ফলদায়ক হয়।

Sunday, October 12, 2025

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

🌺 দামোদর (কার্তিক) মাসের মহিমা 🌺

শ্রেষ্ঠ মাস কেন?

স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ ও হরিভক্তিবিলাসে বর্ণিত ভগবান বিষ্ণু-এর প্রিয়তম মাস


বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে কার্তিক মাস-এর মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং শ্রীহরিভক্তিবিলাস-এর মতো শাস্ত্রে এই মাসকে সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দেওয়া হয়েছে। পদ্মপুরাণে, কার্তিক মাসকে "দামোদর মাস" হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই মাসে ভগবান বিষ্ণু তাঁর দামোদর রূপে পূজিত হন। প্রথমেই পদ্মপুরাণে বর্ণিত একটি কথা দেখা যাক যেটি এই মাসের মাহাত্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।


কার্তিক মাসের অলৌকিক দীপকথা: একটি ইঁদুরের অজান্ত আরাধনা  

কার্তিক মাস ভগবান বিষ্ণু-র প্রিয়তম মাস। এই মাসে প্রদীপ জ্বালানো কেবল পূজার অংশ নয়, এটি ভক্তির প্রতীক। প্রদীপের আলো মানে আত্মার আলোক, যা অন্ধকার দূর করে হৃদয়কে ঈশ্বর-এর পথে নিয়ে যায়।

প্রাচীন কালে এক ছোট্ট নগরে ভগবান বিষ্ণু-র একটি মন্দির ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় ভক্তরা সেখানে এসে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাতেন। মন্দির তখন আলো ও সুবাসে ভরে উঠত। তিলের তেল বা বিশুদ্ধ ঘি দিয়ে সেই প্রদীপ জ্বালানো হতো, যার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত দূর পর্যন্ত।

Wednesday, October 8, 2025

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

🪔 দামোদর লীলা ও দীপ দানের অক্ষয় মাহাত্ম্য 🪔


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কার্তিক মাস কেবল বছরের একটি মাস নয়, এটি হলো পুণ্য, ভক্তি এবং ভগবানের লীলাস্মরণের এক পবিত্রতম সময়কাল। এই মাসটি দামোদর মাস নামেও পরিচিত, যা স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাৎসল্য রসে পরিপূর্ণ এক লীলার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এই পবিত্র মাসে দীপদান করাকে ধর্মীয় ঐতিহ্যে এক বিশেষ মঙ্গলজনক ও মোক্ষদায়ী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।




কার্তিক মাস কেন শ্রেষ্ঠ ?

শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় মাস: কার্তিক মাসটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এই মাসে ভক্ত তাঁর প্রীতি লাভের জন্য সামান্য কিছু সেবা করলেও ভগবান তাতে সহস্রগুণ সন্তুষ্ট হন।

নিয়ম সেবার কাল: এই মাসকে 'নিয়ম সেবার কাল'ও বলা হয়। ভক্তরা কঠোর ব্রত, সংযম ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করেন।

সম্পূর্ণ দামোদর স্তোত্রটি পাঠ করুন এখানে ক্লিক করে

Monday, September 22, 2025

মহাভারতে গীতা কয়টি

মহাভারতের গভীরে গীতার অন্বেষণ: একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

নমস্কার সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ! 'মহাভারতের গভীরে গীতার অন্বেষণ' সিরিজে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগতম! আজ আমরা প্রবেশ করতে চলেছি এক এমন আলোচনায়, যা মহাভারত এবং অন্তর্গত গীতাগুলির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রখ্যাত নৈয়ায়িক Mm. অনন্ত ঠাকুর তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ সন্দর্ভে এক অসাধারণ যুক্তির অবতারণা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, যদি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-কে মহাভারতের বিদ্যমান পাঠ্য থেকে বাদও দেওয়া হয়, তাহলেও এর মূল বার্তাটি বিশাল আখ্যানের প্রতিটি পরতে পরতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ আমাদের ভাবনার এক নতুন খোরাক যোগায়।

ঠাকুর মশাই আরও লক্ষ্য করেছেন যে, এই বিশাল মহাকাব্যে শুধু ভগবদ্গীতা নয়, আরও অনেক 'গীতা' ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই সমস্ত গীতা একত্রে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মূল শিক্ষাকেই যেন প্রতিধ্বনিত করে। তিনি একজন অসামান্য নৈয়ায়িক বা ভারতীয় শৈলীর যুক্তিবাদী। তিনি তাঁর যুক্তিকে নিজস্ব সিদ্ধান্তের সপক্ষে প্রয়োগ করেন। একদিকে, তিনি তাঁর বক্তব্যকে না-বাচক যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেন: ভগবদ্গীতা বাদ দিলেও এর শিক্ষা বাকি অংশ থেকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব (বিপক্ষ)। অন্যদিকে, তিনি ইতিবাচক বক্তব্যের সাহায্যে বলেন যে, মহাভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে অনেক গীতা (সপক্ষ), যা সম্পূর্ণরূপে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সঙ্গে এক সুরে বাঁধা। এই গীতাগুলো সম্মিলিতভাবে কেবল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বার্তাকেই তুলে ধরে।

Sunday, September 21, 2025

শ্রী শ্রী ব্রহ্মসংহিতা - সম্পূর্ণ পাঠ



শ্রী শ্রী ব্রহ্মসংহিতা - সম্পূর্ণ পাঠ

ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট পড়ুন

আমাদের পূর্ববর্তী পোস্টে আমরা ব্রহ্মসংহিতার মহিমা ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এই পোস্টে আমরা সেই অমূল্য রত্নের সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরছি, যাতে ভক্তরা মূল স্তোত্রটি সরাসরি পাঠ করতে পারেন।


শ্লোক ৫.১

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।

শ্লোক ৫.২

সহস্রপত্র-কমলং গােকুলাখ্যং মহৎপদম্।
তৎ কর্ণিকার-তদ্ধাম তদনন্তাংশ-সম্ভবম ॥

শ্লোক ৫.৩

কর্ণিকারং মহদযন্ত্রং ষট্কোণং বজ্রকীলকম।
ষড়ঙ্গ-ষটপদী-স্থানং প্রকৃত্যা পুরুষেণ চ ॥
প্রেমানন্দমহানন্দ-রসেনাবস্থিতং হি যৎ।
জ্যোতীরূপেণ মনুনা কামবীজেন সঙ্গতম্॥

শ্লোক ৫.৪

তৎকিঞ্জল্কং তদংশানাং তৎপত্রাণি শ্রিয়ামপি ॥

ব্রহ্ম-সংহিতা: চিরন্তন ভক্তি ও জ্ঞানধারার অমৃতস্বরূপ গ্রন্থ



ভক্তির পথ কখনও সোজা নয়, কখনও গহন এবং কখনও রহস্যময় — আর ব্রহ্মসংহিতা সেই রহস্যময় পথের এক দীপ্তিময় নক্ষত্র। আজকের লেখা আপনাকে নিয়ে যাবে সেই যাত্রাপথে যেখানে হ্রদয় স্পর্শ করে, চিত্ত জাগে, এবং ভক্তি প্রেমে মাতিয়ে তোলে। আর সেই যাত্রাটা মোড় নেয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দক্ষিণ ভ্রমণ, একটি হারানো পুঁথির সন্ধান, গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সাক্ষাৎ, প্রাণবন্ত উদ্ধৃতি, আচার্যদের অবদান ও অবশেষে আপনার চোখ ও হৃদয় ভিডিও দেখার আহ্বান।

ব্রহ্মসংহিতা: শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তিপথ

আপনি কি জানেন, সৃষ্টির আদি কারণ কে? অথবা কিভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এক প্রাচীন পুঁথি থেকে ভক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন?

ব্রহ্মসংহিতা হলো এমন এক অমূল্য রত্ন, যা ভক্ত হৃদয়ে জ্ঞান, প্রেম ও আনন্দ একত্রে জাগ্রত করে। এটি কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়, স্বয়ং ব্রহ্মা যিনি সৃষ্টির প্রথম জীব, তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত স্তোত্র। এই ব্লগে আমরা জানবো সেই মহিমান্বিত গ্রন্থের মূল বিষয়গুলো।

প্রথমে হৃদয়ের গভীরতায় হোক — ব্রহ্মসংহিতা কোনো সাধারণ শাস্ত্র নয়। এটি শ্রী ব্রহ্মার মুখ থেকে উচ্চারিত এক স্তুতি, যেখানে শ্রী গোবিন্দ — অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণই পরম, সর্বোচ্চ, অনাদিকাল এবং সত্য-চেতনা-আনন্দের অবতার।

Saturday, September 20, 2025

শ্রী রাধা শতনাম স্তোত্র | Sri Radha 100 Names Stotra in Bengali



শ্রী রাধা শতনাম স্তোত্র 

Sri Radha 100 Names Stotra in Bengali

ভক্তির মধুর স্রোতে নিমজ্জিত হোন শ্রী রাধার অমৃতময় নামস্মরণে। এই শ্রী রাধা শতনাম স্তোত্র হল শ্রীমতী রাধার ১০০টি নামের পবিত্র সংকলন, যা ভক্তকে রাধা-কৃষ্ণ প্রেমে এক অনন্য আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। প্রতিদিন ভক্তিভরে পাঠ করলে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভক্তির বিকাশ ঘটে।


📺 ভিডিও: শ্রী রাধা শতনাম স্তোত্র পাঠ



---

Thursday, September 18, 2025

গজেন্দ্র ও কুমিরের কাহিনী

 

সাংসারিক দুঃখ কষ্টের কবল থেকে মুক্তি পেতে আর্থিক ঋণের জাল থেকে মুক্ত হতে রোজ শ্রবন করুন শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্র 

হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে

বন্ধুরা, যে ব্যক্তি একাগ্র চিত্তে সর্বক্ষণ ভগবানকেই চিন্তা করেন শ্রীমদ্ভগবত গীতায় ভগবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তির এই যোগকে ( বলা যায় সমস্ত যোগের মধ্যে এটি সবথেকে উৎকৃষ্ট যোগ কারণ এটি ভক্তি যোগের চরম পর্যায় যেখানে ভক্ত নিজেকে কোন অবস্থাতেই ভগবান থেকে পৃথক ভাবে দেখতে চান না ) সংরক্ষণ করেন এবং যথাসময়ে তাকে পুনরায় এই যোগ মনে করিয়ে দিয়ে তাকে এই যোগের অপ্রাপ্য ফল, অর্থাৎ মোক্ষ প্রদান করেন। (অধ্যায়:৯ শ্লোক : ২২)


বন্ধুরা শ্রীমদ্ভাগবতম মহাপুরানের অষ্টম স্কন্দের  তিন নম্বর অধ্যায়ের শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষ স্তুতি পর্ব তার অকাট্য প্রমাণ। 





Friday, November 19, 2021

শ্রী দামোদরাষ্টকম স্তোত্র পাঠ ও অর্থ আলোচনা

কার্তিক মাস মাহাত্ম্য — মহাভারত, রামায়ণ, স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ, দামোদর ব্রত ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক উপদেশ

শ্রী দামোদরাষ্টকম স্তোত্র পাঠ ও অর্থ আলোচনা

 দামোদর লীলা, যমলার্জুন উদ্ধার, দামোদর ব্রত ও কার্তিক মাসের দীপ দানের মাহাত্ম্য জানতে ক্লিক করুন



শ্রী দামোদর লীলা শ্রী কৃষ্ণের সমস্ত বাল্যলীলা গুলির মধ্যে অন্যতম চিত্তাকর্ষক ও আনন্দদায়ক। ছোট্ট শ্রী কৃষ্ণ চুরি করে মাখন খেতে গিয়ে যশোদা মায়ের হাতে ধরা পড়ে যান আর মা যশোদা তাকে উদূখলের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেন। পরমেশ্বর ভগবান যাকে সমস্ত জগতের কারো পরাজিত করার ক্ষমতা নেই সেই অজিত অনাদির আদি গোবিন্দ তার শুদ্ধ ভক্তের ভক্তিতে বাধা পড়েছেন। "অহং ভক্ত পরাধীনঃ",  শ্রী দামোদরাষ্টকম স্তোত্র যেন ভগবানের এই কথাটি প্রতিধ্বনি। অত্যন্ত শ্রুতি মধুর এই স্তোত্রটি কার্তিক মাসে বা দামোদর মাসে প্রতিদিন ভগবানের সামনে দীপ দানের সাথে পাঠ করুন এবং শ্রবণ করুন।


 শ্রী দামোদরাষ্টকম স্তোত্র



সম্পূর্ণ দামোদরাষ্টকম পাঠ ও মানে সহ আলোচনা শুনুন 


শ্ৰী দামােদরাষ্টকম


নমামীশ্বরং সচ্চিদানন্দরূপং
লসৎ-কুণ্ডলং গােকুলে ভ্রাজমানম্।
যশােদাভিয়ােদূখলাব্ধাবমানং
পরামৃষ্টমত্যং ততাে দ্রুত্য গােপ্যা ॥ ১ ॥

(যশােদাভিয়ােলূখলাব্ধাবমানং)


সমধুর দামোদরাষ্টকম পাঠ শুনুন 

GAJENDRA MOKSHA STOTRA FROM SRIMAD BHĀGAVATAM

 নারায়ণং নমস্কৃত্য নরঞ্চৈব নরোত্তমম্। 

দেবীং সরস্বতীঞ্চৈব ততো জয়মুদীরয়েৎ।।


যে ব্যক্তি একাগ্র চিত্তে সর্বক্ষণ অর্থাৎ ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২৪ ঘন্টাই কেবল ভগবানকেই চিন্তা করেন শ্রীমদ্ভগবত গীতায় ভগবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তির এই যোগকে ( বলা যায় সমস্ত যোগের মধ্যে এটি সবথেকে উৎকৃষ্ট যোগ কারণ এটি ভক্তি যোগের চরম পর্যায় যেখানে ভক্ত নিজেকে কোন অবস্থাতেই ভগবান থেকে পৃথক ভাবে দেখতে চান না ) সংরক্ষণ করেন এবং যথাসময়ে তাকে পুনরায় এই যোগ মনে করিয়ে দিয়ে তাকে এই যোগের অপ্রাপ্য ফল, অর্থাৎ মোক্ষ প্রদান করেন। (অধ্যায়:৯ শ্লোক : ২২)
শ্রীমদ্ভাগবতম মহাপুরানের অষ্টম স্কন্দের তিন নম্বর অধ্যায়ের শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষ স্তুতি পর্ব তার অকাট্য প্রমাণ। 

Tuesday, September 7, 2021

কৃষ্ণ নাম বিনা এই মনুষ্য জন্ম বৃথা

 


হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবলম
কলৌ নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব নাস্ত্যেব গতির্অন্যথা।

অর্থ: কলি কালে কেবল হরির নাম হরির নাম একমাত্র হরির নাম ব্যতীত অন্য কোন গতি আর নেই নেই নেই।

হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে

একমাত্র কৃষ্ণই এই জড় জগতের সকল কষ্ট থেকে উদ্ধার করতে পারে

আপনাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ জেল এতটাই দ্বীপান্তরে যে ভেঙে পালাবার পথ নেই কারণ সবচেয়ে কাছের দ্বীপটি  কয়েক আলোকবর্ষ দুরে। কি করে মুক্তি পাবেন এই জেল থেকে? জেলের যে জেলর সে সারাক্ষণ নতুন কয়েদিদের নিয়ে, তাদের কে কোন সেলে থাকবে কতদিন থাকবে এ নিয়ে ব্যস্ত। তাছাড়া তাকে সারাক্ষণ বিধির আদালতের সাথে লিঁয়াজো রাখতে হয়। সবাই এখানে তাঁকে বাবা বলে ডাকে। নিজের কাজে আর নিজেতেই তিনি মগ্ন সারাক্ষণ।

অঘাসুর লীলা : ছদ্মবেশী বিপদ ও ভক্তির অভয়তা | মাধবম অঘাসুর লীলা : দ্বিতীয় পর্ব ছদ্মবেশী বিপ...