🪔 দামোদর লীলা ও দীপ দানের অক্ষয় মাহাত্ম্য 🪔
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে কার্তিক মাস কেবল বছরের একটি মাস নয়, এটি হলো পুণ্য, ভক্তি এবং ভগবানের লীলাস্মরণের এক পবিত্রতম সময়কাল। এই মাসটি দামোদর মাস নামেও পরিচিত, যা স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাৎসল্য রসে পরিপূর্ণ এক লীলার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এই পবিত্র মাসে দীপদান করাকে ধর্মীয় ঐতিহ্যে এক বিশেষ মঙ্গলজনক ও মোক্ষদায়ী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।
কার্তিক মাস কেন শ্রেষ্ঠ ?
শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় মাস: কার্তিক মাসটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। এই মাসে ভক্ত তাঁর প্রীতি লাভের জন্য সামান্য কিছু সেবা করলেও ভগবান তাতে সহস্রগুণ সন্তুষ্ট হন।
নিয়ম সেবার কাল: এই মাসকে 'নিয়ম সেবার কাল'ও বলা হয়। ভক্তরা কঠোর ব্রত, সংযম ও বিশেষ পূজার মাধ্যমে নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করেন।
সম্পূর্ণ দামোদর স্তোত্রটি পাঠ করুন এখানে ক্লিক করে
দামোদর লীলা: প্রেমের বন্ধনে ভগবান
এই মাসকে 'দামোদর মাস' বলা হয় কারণ এই মাসে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেই বিখ্যাত দামবন্ধন লীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
মুক্তির সহজ পথ
কার্তিক মাসের মহিমা
রাধারাণীর আশীর্বাদপুষ্ট মাস: ঊর্জ্জা ও কার্তিকা
এই মাসটি শ্রীমতী রাধারাণীর অত্যন্ত প্রিয় বলে ঊর্জ্জা মাস নামেও মহিমান্বিত। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা, ভক্তের প্রতি তাঁর করুণা এবং রাধারাণীর মাধুর্যময় প্রেম—সবই কার্তিকের ব্রত ও মাহাত্ম্যের কেন্দ্রে রয়েছে।
কার্তিক মাসকে কেন সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা হয়, তার গভীর আধ্যাত্মিক কারণ রয়েছে। শাস্ত্রে এর একাধিক নাম ও তাৎপর্য বর্ণিত হয়েছে:
১. ঊর্জ্জা মাস (শক্তির মাস)
২. কার্তিকা বা কার্তিকী (কীর্তিদার কন্যা)
- জননী সংযোগ: রাধারাণীর মাতার নাম হলো কীর্তিদা (বা কীর্তিকা)। সেই অনুসারে রাধারাণীকে কীর্তিদার কন্যা বা কার্তিকা বলা হয়।
- অধিষ্ঠাত্রী দেবী: শ্রীপাদ রূপ গোস্বামী-সহ অনেক আচার্য শ্রীমতী রাধারাণীকে এই মাসের অধিষ্ঠাত্রী দেবী (Presiding Deity) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাই, রাধারাণীর নামানুসারেও এই মাসকে কার্তিক বলা হয়, এবং এই মাস তাঁর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
শ্রীমতী রাধারাণীর এক নাম হলো কার্তিকা বা কার্তিকী। এটি দুটি প্রধান কারণে বলা হয়:
এই মাসটি শ্রী শ্রী রাধা-মাধবের যুগল উপাসনার জন্য শ্রেষ্ঠ।
দামোদর লীলা: প্রেমের দড়িতে বাঁধা ভগবান
'দামোদর' নামের সার্থকতা
যমলার্জুন বৃক্ষ উদ্ধার: শাপমুক্তি ও করুণার বন্ধন
দামোদর লীলা শেষ হওয়ার পরই সেই বিখ্যাত যমলার্জুন বৃক্ষ উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটে, যা কার্তিক মাসের মাহাত্ম্যকে আরও দৃঢ় করে।
নলকুবের ও মণিগ্রীবের অভিশাপ
বৃন্দাবনে নন্দ মহারাজের বাড়ির উঠোনে জোড়া বিশাল অর্জুন বৃক্ষ ছিল, যা আসলে ছিলেন কুবেরের দুই পুত্র— নলকুবের এবং মণিগ্রীব। পূর্বজন্মে তাঁরা অহংকারে মত্ত হয়ে, বস্ত্রহীন অবস্থায় ছিলেন। ঋষি নারদের অভিশাপে তাঁরা বৃক্ষ হয়ে জন্ম নেন।
লীলা ও শাপমুক্তি
মা যশোদা কর্তৃক উখলে বাঁধা পড়ার পর, শিশু কৃষ্ণ হামাগুড়ি দিতে দিতে সেই যমলার্জুন বৃক্ষের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। উখলটি আড়াআড়িভাবে বৃক্ষ দুটির মাঝে আটকে যায়। কৃষ্ণ তখন জোরে টান দেন, যার ফলে দুটি বৃক্ষই তীব্র শব্দে ভেঙে পড়ে। বৃক্ষ দুটি ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই সেখান থেকে নলকুবের ও মণিগ্রীব তাঁদের আসল দিব্য রূপে আবির্ভূত হন। তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করে শাপমুক্ত হয়ে নিজলোকে ফিরে যান।
উপহারের বিনিময়ে ভগবানকে লাভ
উপসংহার: প্রেম-ভক্তির সুবর্ণ সুযোগ
🔹 দামোদর বা কার্তিক মাস কেন শ্রেষ্ঠ
🔹 সম্পূর্ণ দামোদর স্তোত্র শুনুন 🔹 স্কন্দ পুরাণে বর্ণিত দামোদর বা কার্তিক মাস মাহাত্ম্য
🔹 পদ্ম পুরাণে বর্ণিত দামোদর বা কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 রামায়ণ ও মহাভারতে বর্ণিত কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 হরি ভক্তি বিলাসে বর্ণিত দামোদর মাস মাহাত্ম্য






No comments:
Post a Comment