Monday, September 22, 2025

মহাভারতে গীতা কয়টি

মহাভারতের গভীরে গীতার অন্বেষণ: একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

নমস্কার সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ! 'মহাভারতের গভীরে গীতার অন্বেষণ' সিরিজে আপনাদের সকলকে জানাই স্বাগতম! আজ আমরা প্রবেশ করতে চলেছি এক এমন আলোচনায়, যা মহাভারত এবং অন্তর্গত গীতাগুলির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রখ্যাত নৈয়ায়িক Mm. অনন্ত ঠাকুর তাঁর এক গুরুত্বপূর্ণ সন্দর্ভে এক অসাধারণ যুক্তির অবতারণা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, যদি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-কে মহাভারতের বিদ্যমান পাঠ্য থেকে বাদও দেওয়া হয়, তাহলেও এর মূল বার্তাটি বিশাল আখ্যানের প্রতিটি পরতে পরতে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হবে। তাঁর এই পর্যবেক্ষণ আমাদের ভাবনার এক নতুন খোরাক যোগায়।

ঠাকুর মশাই আরও লক্ষ্য করেছেন যে, এই বিশাল মহাকাব্যে শুধু ভগবদ্গীতা নয়, আরও অনেক 'গীতা' ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এই সমস্ত গীতা একত্রে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার মূল শিক্ষাকেই যেন প্রতিধ্বনিত করে। তিনি একজন অসামান্য নৈয়ায়িক বা ভারতীয় শৈলীর যুক্তিবাদী। তিনি তাঁর যুক্তিকে নিজস্ব সিদ্ধান্তের সপক্ষে প্রয়োগ করেন। একদিকে, তিনি তাঁর বক্তব্যকে না-বাচক যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ করেন: ভগবদ্গীতা বাদ দিলেও এর শিক্ষা বাকি অংশ থেকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব (বিপক্ষ)। অন্যদিকে, তিনি ইতিবাচক বক্তব্যের সাহায্যে বলেন যে, মহাভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে অনেক গীতা (সপক্ষ), যা সম্পূর্ণরূপে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সঙ্গে এক সুরে বাঁধা। এই গীতাগুলো সম্মিলিতভাবে কেবল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বার্তাকেই তুলে ধরে।

Sunday, September 21, 2025

শ্রী শ্রী ব্রহ্মসংহিতা - সম্পূর্ণ পাঠ



শ্রী শ্রী ব্রহ্মসংহিতা - সম্পূর্ণ পাঠ

ভূমিকা ও প্রেক্ষাপট পড়ুন

আমাদের পূর্ববর্তী পোস্টে আমরা ব্রহ্মসংহিতার মহিমা ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এই পোস্টে আমরা সেই অমূল্য রত্নের সম্পূর্ণ পাঠ তুলে ধরছি, যাতে ভক্তরা মূল স্তোত্রটি সরাসরি পাঠ করতে পারেন।


শ্লোক ৫.১

ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।

শ্লোক ৫.২

সহস্রপত্র-কমলং গােকুলাখ্যং মহৎপদম্।
তৎ কর্ণিকার-তদ্ধাম তদনন্তাংশ-সম্ভবম ॥

শ্লোক ৫.৩

কর্ণিকারং মহদযন্ত্রং ষট্কোণং বজ্রকীলকম।
ষড়ঙ্গ-ষটপদী-স্থানং প্রকৃত্যা পুরুষেণ চ ॥
প্রেমানন্দমহানন্দ-রসেনাবস্থিতং হি যৎ।
জ্যোতীরূপেণ মনুনা কামবীজেন সঙ্গতম্॥

শ্লোক ৫.৪

তৎকিঞ্জল্কং তদংশানাং তৎপত্রাণি শ্রিয়ামপি ॥

ব্রহ্ম-সংহিতা: চিরন্তন ভক্তি ও জ্ঞানধারার অমৃতস্বরূপ গ্রন্থ



ভক্তির পথ কখনও সোজা নয়, কখনও গহন এবং কখনও রহস্যময় — আর ব্রহ্মসংহিতা সেই রহস্যময় পথের এক দীপ্তিময় নক্ষত্র। আজকের লেখা আপনাকে নিয়ে যাবে সেই যাত্রাপথে যেখানে হ্রদয় স্পর্শ করে, চিত্ত জাগে, এবং ভক্তি প্রেমে মাতিয়ে তোলে। আর সেই যাত্রাটা মোড় নেয় শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর দক্ষিণ ভ্রমণ, একটি হারানো পুঁথির সন্ধান, গোপাল ভট্ট গোস্বামীর সাক্ষাৎ, প্রাণবন্ত উদ্ধৃতি, আচার্যদের অবদান ও অবশেষে আপনার চোখ ও হৃদয় ভিডিও দেখার আহ্বান।

ব্রহ্মসংহিতা: শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তিপথ

আপনি কি জানেন, সৃষ্টির আদি কারণ কে? অথবা কিভাবে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এক প্রাচীন পুঁথি থেকে ভক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন?

ব্রহ্মসংহিতা হলো এমন এক অমূল্য রত্ন, যা ভক্ত হৃদয়ে জ্ঞান, প্রেম ও আনন্দ একত্রে জাগ্রত করে। এটি কোনো সাধারণ গ্রন্থ নয়, স্বয়ং ব্রহ্মা যিনি সৃষ্টির প্রথম জীব, তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত স্তোত্র। এই ব্লগে আমরা জানবো সেই মহিমান্বিত গ্রন্থের মূল বিষয়গুলো।

প্রথমে হৃদয়ের গভীরতায় হোক — ব্রহ্মসংহিতা কোনো সাধারণ শাস্ত্র নয়। এটি শ্রী ব্রহ্মার মুখ থেকে উচ্চারিত এক স্তুতি, যেখানে শ্রী গোবিন্দ — অর্থাৎ শ্রী কৃষ্ণই পরম, সর্বোচ্চ, অনাদিকাল এবং সত্য-চেতনা-আনন্দের অবতার।

অঘাসুর লীলা : ছদ্মবেশী বিপদ ও ভক্তির অভয়তা | মাধবম অঘাসুর লীলা : দ্বিতীয় পর্ব ছদ্মবেশী বিপ...