🌺 দামোদর (কার্তিক) মাসের মহিমা 🌺
শ্রেষ্ঠ মাস কেন?
স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ ও হরিভক্তিবিলাসে বর্ণিত ভগবান বিষ্ণু-এর প্রিয়তম মাস
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে কার্তিক মাস-এর মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে। স্কন্দপুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং শ্রীহরিভক্তিবিলাস-এর মতো শাস্ত্রে এই মাসকে সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান দেওয়া হয়েছে। পদ্মপুরাণে, কার্তিক মাসকে "দামোদর মাস" হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই মাসে ভগবান বিষ্ণু তাঁর দামোদর রূপে পূজিত হন। প্রথমেই পদ্মপুরাণে বর্ণিত একটি কথা দেখা যাক যেটি এই মাসের মাহাত্মকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।
কার্তিক মাসের অলৌকিক দীপকথা: একটি ইঁদুরের অজান্ত আরাধনা
কার্তিক মাস ভগবান বিষ্ণু-র প্রিয়তম মাস। এই মাসে প্রদীপ জ্বালানো কেবল পূজার অংশ নয়, এটি ভক্তির প্রতীক। প্রদীপের আলো মানে আত্মার আলোক, যা অন্ধকার দূর করে হৃদয়কে ঈশ্বর-এর পথে নিয়ে যায়।
প্রাচীন কালে এক ছোট্ট নগরে ভগবান বিষ্ণু-র একটি মন্দির ছিল। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় ভক্তরা সেখানে এসে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাতেন। মন্দির তখন আলো ও সুবাসে ভরে উঠত। তিলের তেল বা বিশুদ্ধ ঘি দিয়ে সেই প্রদীপ জ্বালানো হতো, যার গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত দূর পর্যন্ত।
সেই মন্দিরের এক কোণে বাস করত একটি ক্ষুদ্র ইঁদুর। সে প্রতিদিন ভোগের ঘিয়ের গন্ধে মুগ্ধ হয়ে মন্দিরে ঢুকে পড়ত। কখনও ভোগের ছিটে, কখনও দানার টুকরো খুঁজে খেত। তার কোনো ভক্তি ছিল না, ছিল কেবল খাদ্যলাভের লোভ।
একদিন সন্ধ্যায়, যখন সব ভক্ত পূজা শেষ করে চলে গেছেন, তখন মন্দিরে একমাত্র একটি প্রদীপ জ্বলছিল। তার শিখা কাঁপছে, ঘিয়ের সুবাস মৃদুভাবে ভেসে আসছে। ইঁদুরটি সেই গন্ধে টান পেয়ে প্রদীপের দিকে এগিয়ে আসে। তার গোঁফে তখন কিছু শুকনো তুলোর তন্তু লেগে ছিল, যা সে গর্ত সাজানোর জন্য ব্যবহার করছিল।
যেই মুহূর্তে ইঁদুরটি প্রদীপের কিনারায় ওঠে, প্রদীপের শিখাটি দুলে তার গোঁফে লেগে থাকা তুলোয় ছোঁয়া দেয়। তুলো জ্বলে ওঠে, আর ইঁদুরটি ভয়ে তড়িঘড়ি নড়াচড়া করতে থাকে। সে দৌড়াতে দৌড়াতে প্রদীপের চারপাশে ঘুরতে থাকে। জ্বলন্ত তুলো দুলে দুলে প্রদীপের শিখার সঙ্গে মিশে যায়, আর পুরো মন্দির জুড়ে এক অপূর্ব আলো ছড়িয়ে পড়ে।
ভগবান বিষ্ণু-র প্রতিমা সেই আলোয় যেন প্রাণ ফিরে পায়। মৃদু হাসি ফুটে ওঠে তাঁর মুখে। তিনি দেখলেন, এক ক্ষুদ্র প্রাণী অজান্তেই তাঁর সম্মুখে দীপ নিবেদন করেছে। ইঁদুরটির উদ্দেশ্য ছিল শুধু ঘি খাওয়া, কিন্তুসে অজান্তেই প্রদীপ জ্বেলে ভগবানের আরাধনা করে ফেলেছে।
🌸 মর্মার্থ
ভগবান ভক্তির বাহ্যিক আকার নয়, হৃদয়ের স্পর্শ দেখেন। কখনও কখনও লোভও ভক্তিতে রূপ নেয়, যখন তা আলোর পথে যায়। কার্তিক মাস সেই আলোর প্রতীক, যেখানে একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর অজান্ত কাজও ভগবানের প্রীতি সাধনে পরিণত হয়।
📜 রেফারেন্স
পদ্ম পুরাণ — কার্তিক মহাত্ম্য:
“যো দীপং কার্তিকে মাসে হরেয়োঃ সম্মুখে দদেৎ।
তস্য পুণ্যফলং ব্রহ্মা ন শক্নোতি বর্ণিতুম্॥”
অর্থাৎ — কার্তিক মাসে ভগবান হরির সম্মুখে দীপ জ্বালালে তার পুণ্যের সীমা ব্রহ্মাও বর্ণনা করতে পারেন না।
স্কন্দ পুরাণ — বৈষ্ণব খণ্ড:
কার্তিক মাসে প্রদীপ-অর্পণ ও হরিপ্রীতির মাহাত্ম্য বিস্তৃতভাবে উল্লেখ রয়েছে, যদিও এই নির্দিষ্ট ইঁদুরের ঘটনা পদ্ম পুরাণ থেকেই প্রচলিত।
🔹 পদ্ম পুরাণে বর্ণিত দামোদর বা কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 রামায়ণ ও মহাভারতে বর্ণিত কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 ব্রতের নিয়মাবলী ও হরি ভক্তি বিলাসে বর্ণিত দামোদর মাস মাহাত্ম্য
🔹 শ্রী দামোদর অষ্টকম স্তোত্র পাঠ ও অর্থ আলোচনা
📖 সূচিপত্রে ফিরে যান
#KartikBrata#KartikMaas #DamodarMonth #Bhakti #VishnuMahatmya #PadmaPurana #Deepdaan #DevotionalStory






No comments:
Post a Comment