পদ্মপুরাণ হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাপুরাণ, যা ভগবান বিষ্ণুর মাহাত্ম্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে। স্কন্দপুরাণের মতোই পদ্মপুরাণও কার্তিক মাসের বিশেষ গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে। পদ্মপুরাণে, কার্তিক মাসকে "দামোদর মাস" হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ এই মাসে ভগবান বিষ্ণু তাঁর দামোদর রূপে পূজিত হন।
পদ্মপুরাণে কার্তিক মাস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে, তার কিছু মূল বিষয় নিচে দেওয়া হলো:
১. সর্বশ্রেষ্ঠ মাস ও দামোদর মাস:
পদ্মপুরাণ কার্তিক মাসকে সকল মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করে। এটি বিশেষভাবে ভগবান দামোদরের (শ্রীকৃষ্ণের শৈশব রূপ) উপাসনার মাস।
মূল শ্লোক:
"ন কার্তিকসমো মাসো ন কৃত্যং দামোদরপ্রিয়ম। ন চ বেদসমং শাস্ত্রং ন তীর্থং গঙ্গয়া সমম্॥"
অর্থ: "কার্তিক মাসের সমান কোনো মাস নেই, দামোদরের প্রিয় অতিরিক্ত কোনো কার্য নেই, বেদের সমান কোনো শাস্ত্র নেই, এবং গঙ্গার সমান কোনো তীর্থ নেই।"
তাৎপর্য: এই শ্লোকটি কার্তিক মাসের এবং ভগবান দামোদরের মাহাত্ম্যকে তুলে ধরে, যেখানে কার্তিক মাসের ব্রতকে অত্যন্ত ফলদায়ক বলা হয়েছে।
মূল শ্লোক:
"যো দীপং কার্তিকে মাসে হরেয়োঃ সম্মুখে দদেৎ। তস্য পুণ্যফলং ব্রহ্মা ন শক্নোতি বর্ণিতুম্॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে হরির (ভগবান বিষ্ণুর) সম্মুখে প্রদীপ দান করে, সেই ব্যক্তির পুণ্যফল বর্ণনা করতে ব্রহ্মা (সৃষ্টিকর্তা) নিজেও সক্ষম নন।"
তাৎপর্য: কার্তিক মাসের একটিমাত্র দীপদানও এত বিশাল ফল দেয় যে, তার মহিমা দেবতাগণ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে অক্ষম। এ কারণেই পদ্ম পুরাণে বলা হয়েছে — কার্তিক মাস হলো ভগবান বিষ্ণুর প্রীতি সাধনের শ্রেষ্ঠ সময়।
২. প্রাতঃস্নান ও ধর্মকর্ম:
পদ্মপুরাণ অনুসারে, কার্তিক মাসে সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র জলে স্নান করা অত্যন্ত পুণ্যদায়ক। এই স্নানকে 'কার্তিক স্নান' বলা হয়।
যারা কার্তিক মাসে প্রাতঃস্নান করে এবং নিষ্ঠা সহকারে ধর্মকর্ম করে, তাদের সকল পাপ নাশ হয় এবং তারা পুণ্য লাভ করে। এই মাসটি মন ও শরীরকে শুদ্ধ করার এবং আধ্যাত্মিক জীবনে উন্নতির জন্য এক বিশেষ সুযোগ।
৩. দীপদান ও আলয় সজ্জিতকরণ:
পদ্মপুরাণে দীপদানের উপর অত্যন্ত জোর দেওয়া হয়েছে, যেমনটি স্কন্দপুরাণেও আছে ভগবান বিষ্ণুর মন্দিরে, তুলসী মূলে, অথবা পবিত্র স্থানে দীপদান করলে মহাপুণ্য লাভ হয়। এই মাসে যে ব্যক্তি ভগবান বিষ্ণুর সম্মুখে প্রদীপ প্রজ্বলিত করে, সে পূর্বজন্মের সকল পাপ থেকে মুক্তি পায় এবং বৈকুণ্ঠ প্রাপ্ত হয়। গৃহকে দীপ দ্বারা সজ্জিত করাও শুভ ফলদায়ক।
৪. তুলসী পূজা ও তুলসী মাহাত্ম্য:
কার্তিক মাসে তুলসী পূজার গুরুত্ব পদ্মপুরাণেও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তুলসীকে বিষ্ণুপ্রিয়া বলা হয়, এবং কার্তিক মাসে তুলসী গাছের সেবা, পূজা এবং তুলসী প্রদক্ষিণ করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ। এই মাসে তুলসীর কাছে প্রদীপ জ্বালানো বা তুলসী মূলে জল দান করলে সকল পাপ দূর হয় এবং মুক্তি লাভ হয়। তুলসী বিবাহ (তুলসী-শালগ্রাম বিবাহ) এই মাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব।
৫. হরি কথা শ্রবণ ও কীর্তন:
পদ্মপুরাণ এই মাসে ভগবান হরির (বিষ্ণুর) গুণগান, তাঁর কথা শ্রবণ ও কীর্তনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। কার্তিক মাসে যারা বিষ্ণুর লীলাকথা শ্রবণ করে, ভাগবত পাঠ করে বা কীর্তন করে, তারা বিষ্ণুর প্রিয়পাত্র হয়। এই মাসে বৈষ্ণবদের সঙ্গ করা এবং হরিভক্তি বৃদ্ধি করা মোক্ষের পথ খুলে দেয়।
৬. সংযম ও ব্রত:
পদ্মপুরাণ কার্তিক মাসে সংযম, ব্রহ্মচর্য পালন, এবং আমিষ বর্জন করে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণের উপর জোর দেয়। এই মাসে বিশেষ ব্রত পালন করলে তা জন্ম-জন্মান্তরের পুণ্যফল দেয়। একাদশী এবং পূর্ণিমা ব্রত কার্তিক মাসে বিশেষভাবে ফলদায়ক।
সংক্ষেপে পদ্মপুরাণ কার্তিক মাসকে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় বলে বর্ণনা করে। এই মাসে দীপদান, তুলসী পূজা, প্রাতঃস্নান, হরি কথা শ্রবণ এবং সংযম পালনের মাধ্যমে ভক্তরা অশেষ পুণ্য ও মোক্ষ লাভ করতে পারে। এটি বিশেষভাবে দামোদর মাস হিসেবে পরিচিত, যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শৈশব লীলাকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং ভক্তদের ভক্তি বৃদ্ধি করে।
রেফারেন্স
পদ্মপুরাণ একটি বিশাল গ্রন্থ এবং এটি প্রধানত পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত: সৃষ্টি খণ্ড, ভূমি খণ্ড, স্বর্গ খণ্ড, পাতাল খণ্ড এবং উত্তর খণ্ড। কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য মূলত উত্তর খণ্ডে (কিছু সংস্করণে এটি ব্রহ্ম খণ্ড বা পাতাল খণ্ডের অন্তর্গত হতে পারে) বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে এটি 'কার্তিক মাস মাহাত্ম্য' বা 'দামোদর মাহাত্ম্য' নামে পরিচিত। আমি এখানে কিছু মূল শ্লোক এবং তাদের সম্ভাব্য অবস্থান উল্লেখ করছি। তবে, পদ্মপুরাণের বিভিন্ন সংস্করণে (যেমন ভেঙ্কটেশ্বর প্রেস, চৌখাম্বা, ইত্যাদি) শ্লোক ও অধ্যায়ের বিন্যাসে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। আমি সর্বাধিক প্রচলিত উল্লেখগুলি ব্যবহার করছি।
পদ্মপুরাণে কার্তিক মাসের মাহাত্ম্য (অধ্যায়, শ্লোক ও মূল শ্লোক সহ)
১. কার্তিক মাসের সর্বশ্রেষ্ঠত্ব (দামোদর মাস হিসাবে):
এটি পদ্মপুরাণের সবচেয়ে বিখ্যাত শ্লোকগুলির মধ্যে একটি, যা কার্তিক মাসের গুরুত্বকে তুলে ধরে। অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ১ (অথবা সংশ্লিষ্ট প্রথম দিকের অধ্যায়)।
শ্লোক:
"ন কার্তিকসমো মাসো ন কৃত্যং দামোদরপ্রিয়ম্।
ন চ বেদসমং শাস্ত্রং ন তীর্থং গঙ্গয়া সমম্॥"
অর্থ: "কার্তিক মাসের সমান কোনো মাস নেই, দামোদরের (বিষ্ণুর) প্রিয় কোনো কার্য নেই, বেদের সমান কোনো শাস্ত্র নেই, এবং গঙ্গার সমান কোনো তীর্থ নেই।"
তাৎপর্য: এই শ্লোকটি কার্তিক মাসকে সকল মাস, কার্য, শাস্ত্র এবং তীর্থের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করে।
শ্লোক:
"যো দীপং কার্তিকে মাসে হরেয়োঃ সম্মুখে দদেৎ। তস্য পুণ্যফলং ব্রহ্মা ন শক্নোতি বর্ণিতুম্॥"
অধ্যায়: কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ৪ (অথবা এর কাছাকাছি কোনো অধ্যায়, যেখানে দীপদান প্রকরণ বর্ণিত হয়েছে)।
শ্লোক নম্বর: শ্লোকটি সাধারণত ৪.২৩ (চার নম্বর অধ্যায়ের তেইশ নম্বর শ্লোক) বা ৪.২৫ এর আশেপাশে পাওয়া যায়, তবে বিভিন্ন সংস্করণে এই নম্বরটি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
২. প্রাতঃস্নান মাহাত্ম্য:
কার্তিক মাসে প্রাতঃস্নানের গুরুত্ব।
অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ২ (অথবা সংশ্লিষ্ট প্রাতঃস্নান প্রকরণ)।
শ্লোক (উদাহরণ):
"কার্তিকে প্রাতরুথ্থায় স্নাত্বা পুণ্যে সরিৎসলে। বিষ্ণোঃ পূজাং প্রকুর্বীত মুচ্যতে সর্বকিল্বিষাৎ॥"
অর্থ: "কার্তিক মাসে সকালে উঠে পবিত্র নদীর জলে স্নান করে বিষ্ণুর পূজা করলে সকল পাপ থেকে মুক্তি লাভ হয়।" তাৎপর্য: এই শ্লোকটি কার্তিক মাসের প্রাতঃস্নানকে পাপমোচক এবং বিষ্ণু প্রীতিদায়ক বলে বর্ণনা করে।
৩. দীপদান মাহাত্ম্য:
কার্তিক মাসে দীপদানের অসীম পুণ্যফল।
অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ৪-৬ (দীপদান প্রকরণ)।
শ্লোক (উদাহরণ):
"কার্তিকে দীপদানং যঃ কুরুতে বিষ্ণুসংনিধৌ। স সর্বপাপনির্মুক্তো বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি॥" (এটি স্কন্দপুরাণেও প্রচলিত)
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে বিষ্ণুর সম্মুখে দীপদান করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গমন করে।" অন্য শ্লোক (উদাহরণ):
"যো দদাতি দীপং কার্তিকে মাসি কেশবায়। স সর্বতীর্থেষু স্নানস্য ফলং লভতে ধ্রুবম্॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে কেশবকে (বিষ্ণুকে) প্রদীপ দান করে, সে সকল তীর্থে স্নানের ফল নিশ্চিতভাবে লাভ করে।" তাৎপর্য: এই শ্লোকগুলি দীপদানকে অত্যন্ত পুণ্যের কাজ হিসেবে তুলে ধরে, যা পাপ নাশ করে এবং মুক্তি প্রদান করে।
৪. তুলসী পূজা মাহাত্ম্য:
কার্তিক মাসে তুলসী গাছের সেবা ও পূজার বিশেষ ফল।
অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ৮-১০ (তুলসী মাহাত্ম্য প্রকরণ)।
শ্লোক (উদাহরণ):
"তুলসীং সেবতে যো বৈ কার্তিকে মাসি নিত্যশঃ। স সর্বপাপনির্মুক্তো বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি॥" (এটিও স্কন্দপুরাণে প্রচলিত)
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে প্রতিদিন তুলসীর সেবা করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গমন করে।" অন্য শ্লোক (উদাহরণ):
"তুলসী-মূলে দীপং যো দদাতি দামোদরস্য চ। তস্য পুণ্যং ভবেৎ সর্বং ব্রহ্মহত্যাদি নাশকম্॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি দামোদরের (প্রীত্যর্থে) তুলসীর মূলে প্রদীপ দান করে, তার ব্রহ্মহত্যাদি সকল পাপ নাশ হয়।" তাৎপর্য: তুলসীকে এই মাসে বিষ্ণুপ্রিয়া রূপে পূজা করার মাধ্যমে অসীম পুণ্য লাভ হয়।
৫. হরি কথা শ্রবণ ও কীর্তন:
ভগবান বিষ্ণুর গুণগান ও লীলাকথা শ্রবণ করার গুরুত্ব।
অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ১২-১৪ (হরি কথা শ্রবণ প্রকরণ)।
শ্লোক (উদাহরণ):
"হরির্যস্য চ গীয়তে কার্তিকে মাসি ভক্তিতঃ। তস্য পুণ্যং ভবেৎ নিত্যং স যাতি পরমাং গতিম্॥"
অর্থ: "কার্তিক মাসে যে ব্যক্তি ভক্তি সহকারে হরির (বিষ্ণু) গুণগান করে, সে নিত্য পুণ্য লাভ করে এবং পরম গতি প্রাপ্ত হয়।" তাৎপর্য: এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ, কীর্তন এবং লীলাকথা শ্রবণ মোক্ষ প্রদানে সহায়ক।
৬. সংযম ও ব্রত:
কার্তিক মাসে সংযম ও নির্দিষ্ট ব্রত পালনের ফল।
অধ্যায়: উত্তর খণ্ড, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য, অধ্যায় ১৫-১৭ (ব্রত প্রকরণ)।
এই অংশে একাহারি ব্রত, নক্ত ব্রত (রাত্রিভোজন), ব্রহ্মচর্য পালন, আমিষ বর্জন এবং অন্নদানের মতো বিভিন্ন ব্রত ও তাদের ফল বর্ণনা করা হয়েছে। এই ব্রতগুলি দেহ ও মনকে পবিত্র করে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায়।
পদ্মপুরাণের উত্তরখণ্ডে (কার্তিক মাস মাহাত্ম্য অংশে), ব্রত পালন এবং সংযমের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। যেহেতু পদ্মপুরাণ একটি বিশাল গ্রন্থ এবং এর বিভিন্ন সংস্করণে শ্লোক এবং অধ্যায়ের বিন্যাস কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, এখানে কিছু প্রতিনিধি শ্লোক উল্লেখ করা হল যা এই বিষয়গুলিকে ধারণ করে। এই শ্লোকগুলি কার্তিক মাসে পালনীয় বিভিন্ন ব্রত, যেমন একাহারী, নক্তব্রত, ব্রহ্মচর্য এবং অন্নদানের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে।
পদ্মপুরাণ, উত্তর খণ্ড: কার্তিক মাস মাহাত্ম্য (সংযম ও ব্রত বিষয়ক শ্লোক)
ক. একাহারী ও নক্তব্রত (রাত্রিভোজন) ব্রত মাহাত্ম্য:
পদ্মপুরাণ, কার্তিক মাস মাহাত্ম্য অধ্যায়ে (১৫-১৭ এর মধ্যে একটিতে) বলা হয়েছে যে, যারা কার্তিক মাসে একবেলা আহার করেন (একাহারী), বা শুধুমাত্র রাতে আহার করেন (নক্তব্রত), তারা বিশেষ পুণ্য লাভ করেন।
শ্লোক (উদাহরণ):
"একাহারী ভবেন্নিত্যং নক্তাহারী সদা ভবেৎ। কার্তিকে যো নরো নিত্যং স যাতি পরমং পদম্॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে প্রতিদিন একাহারী হয় (একবেলা আহার করে) অথবা সর্বদা নক্তাহারী হয় (রাতে আহার করে), সেই মানব পরম গতি প্রাপ্ত হয়।" তাৎপর্য: এই শ্লোকটি কার্তিক মাসে আহারের সংযমের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতির উপর জোর দেয়।
২. ব্রহ্মচর্য পালন ও ইন্দ্রিয় সংযম:
কার্তিক মাসে ব্রহ্মচর্য পালনের এবং ইন্দ্রিয়গুলিকে সংযত রাখার বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে।
শ্লোক (উদাহরণ):
"কার্তিকে ব্রহ্মচর্যং যো ধারয়েৎ পুরুষোত্তমঃ। সর্বপাপবিনির্মুক্তো বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি॥"
অর্থ: "যে পুরুষ কার্তিক মাসে ব্রহ্মচর্য ধারণ করে, সে সকল পাপ থেকে মুক্ত হয়ে বিষ্ণুলোকে গমন করে।" তাৎপর্য: এই শ্লোকটি শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধির জন্য ব্রহ্মচর্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রত হিসেবে উপস্থাপন করে।
৩. আমিষ বর্জন (নিরামিষ আহার):
কার্তিক মাসে আমিষ খাদ্য বর্জন করে সাত্ত্বিক বা নিরামিষ আহার গ্রহণের মাহাত্ম্য।
শ্লোক (উদাহরণ):
"কার্তিকে যো নরো মাংসং ত্যজেৎ মদ্যং বিশেষতঃ। স বিষ্ণোঃ প্রিয়পাত্রং স্যাৎ স যাতি পরমং পদম্॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে মাংস এবং বিশেষত মদ্য ত্যাগ করে, সে বিষ্ণুর প্রিয়পাত্র হয় এবং পরম গতি প্রাপ্ত হয়।" তাৎপর্য: এই শ্লোকটি সাত্ত্বিক জীবনযাপনের এবং খাদ্য সংযমের মাধ্যমে বিষ্ণু ভক্তির কথা বলে।
৪. অন্নদান মাহাত্ম্য:
কার্তিক মাসে অন্নদানের বিশেষ ফল বর্ণনা করা হয়েছে, যা সকল পাপ নাশ করে এবং পুণ্য প্রদান করে।
শ্লোক (উদাহরণ):
"কার্তিকে যো দদাতি অন্নং ক্ষুধিতেভ্যশ্চ ভক্তিতঃ। তস্য পুণ্যং ভবেৎ নিত্যং স যাতি সুরসদ্ম তৎ॥"
অর্থ: "যে ব্যক্তি কার্তিক মাসে ক্ষুধার্তদেরকে ভক্তি সহকারে অন্ন দান, তার নিত্য পুণ্য হয় এবং সে সুরলোকে (দেবতাদের ধামে) গমন করে।" তাৎপর্য: এই শ্লোকটি দাতব্য কর্ম, বিশেষত ক্ষুধার্তদের অন্নদানের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
গুরুত্বপূর্ণ দ্রষ্টব্য:
শ্লোক বিন্যাস: পদ্মপুরাণের বিশালতার কারণে, নির্দিষ্ট শ্লোক সংখ্যাগুলি সংস্করণভেদে ভিন্ন হতে পারে। এখানে "কার্তিক মাস মাহাত্ম্য" অংশের মূল ভাব ও প্রসিদ্ধ শ্লোকগুলির উপর ভিত্তি করে উল্লেখ করা হল, যা এই অংশে একাধিকবার বিভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হতে পারে।
পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ নোট:সংস্করণগত ভিন্নতা: পদ্মপুরাণের বিভিন্ন প্রকাশনায় অধ্যায় ও শ্লোক নম্বরগুলি ভিন্ন হতে পারে। উল্লিখিত শ্লোকগুলি মূল বিষয়বস্তু এবং তার ভাবকে প্রতিফলিত করে, যা কার্তিক মাস মাহাত্ম্যে বারবার আলোচিত হয়েছে।
অনুসন্ধান: আপনার কাছে যদি পদ্মপুরাণের কোনো নির্দিষ্ট সংস্করণ থাকে, তবে তার সূচিপত্র (Index) বা অধ্যায় শিরোনামগুলি দেখে 'কার্তিক মাস মাহাত্ম্য', 'দামোদর মাস', 'দামোদর মাহাত্ম্য' বা 'কার্তিক ব্রত' ইত্যাদি শব্দগুলি দিয়ে খুঁজে দেখতে পারেন।
🔹 পদ্ম পুরাণে বর্ণিত দামোদর বা কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 রামায়ণ ও মহাভারতে বর্ণিত কার্তিক মাস মাহাত্ম্য 🔹 ব্রতের নিয়মাবলী ও হরি ভক্তি বিলাসে বর্ণিত দামোদর মাস মাহাত্ম্য
🔹 শ্রী দামোদর অষ্টকম স্তোত্র পাঠ ও অর্থ আলোচনা
📖 সূচিপত্রে ফিরে যান
No comments:
Post a Comment