বৃত্র-গীতা, তৃতীয় অংশ: দেবর্ষি নারদ ও দেবাদিদেব মহাদেব কৃত শ্রী ভগবান সংকর্ষণের মন্ত্র ও স্তব , চিত্রকেতুর ভগবান সংকর্ষণের দর্শন লাভ ও চিত্রকেতু কর্তৃক শ্রী ভগবান সংকর্ষণের স্তব
গুরু পথ দেখিয়ে দেন, কিন্তু সাধনা করতে হয় শিষ্যকেই। দেবর্ষি নারদ শরণাগত চিত্রকেতুকে সেই পরম গোপন মন্ত্রোপদেশ প্রদান করে তার হৃদয়ে ভক্তি ও জ্ঞানের যে বীজ পূর্ব থেকেই সুপ্ত অবস্থায় ছিল তাতে যথাযথ মৃত্তিকা, জল ও বায়ু সিঞ্চন করে, মহর্ষি অঙ্গিরাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ব্রহ্মলোকে প্রত্যাবর্তন করলেন। রাজা চিত্রকেতু সেই নির্দেশকে হৃদয়ে ধারণ করলেন। তিনি আর রাজসুখে মন দিলেন না—সাতদিন ধরে কেবলমাত্র জলপান করে, সম্পূর্ণ একাগ্রচিত্তে, ইন্দ্রিয় সংযম করে সেই মন্ত্রসাধনায় নিমগ্ন রইলেন। এই সাতদিনের সাধনা কেবল বাহ্যিক উপবাস নয়, এটি ছিল অন্তরের পরিশুদ্ধি—মন, বুদ্ধি ও চিত্তকে ভগবানের দিকে নিবদ্ধ করার একাগ্র প্রচেষ্টা। এই তপস্যার ফলও তৎক্ষণাৎ প্রকাশ পেল। সপ্তরাত্রি পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিদ্যার প্রভাবে তাঁর অন্তর থেকে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর হল এবং তিনি অপ্রতিহতভাবে বিদ্যাধরদের অধিপতি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন।
দেবর্ষি নারদ কর্তৃক চিত্রকেতুকে প্রদত্ত শ্রী ভগবান সংকর্ষণের মন্ত্র
শ্রীমদ্ভাগবতম : ষষ্ঠ স্কন্দ : পঞ্চদশ অধ্যায়
ওঁ নমস্তুভ্যং ভগবতে বাসুদেবায় ধীমহি।
প্রদ্যুম্নায়ানিরুদ্ধায় নমঃ সঙ্কর্ষণায় চ।। ১৮
নমো বিজ্ঞানমাত্রায় পরমানন্দমূর্তয়ে।
আত্মারামায় শান্তায় নিবৃত্তদ্বৈতদৃষ্টয়ে।। ১৯
আত্মানন্দানুভূত্যৈব ন্যস্তশ্যময়ে নমঃ।
হৃষীকেশায় মহতে নমস্তে বিশ্বমূর্তয়ে।। ২০
বচস্যুপরতেঽপ্রাপ্য য একো মনসা সহ।
অনামরূপশ্চিন্মাত্রঃ সোঽব্যান্নঃ সদসৎপরঃ।। ২১
যস্মিন্নিদং যতশ্চেদং তিষ্ঠত্যপ্যেতি জায়তে।
মৃন্ময়েষ্বিব মৃজ্জাতিস্তস্মৈ তে ব্রহ্মণে নমঃ।। ২২
যন্ন স্পৃশন্তি ন বিদুর্মনোবুদ্ধীন্দ্রিয়াসবঃ।
অন্তর্বহিশ্চ বিততং ব্যোমবত্তন্নতোঽস্ম্যহম্।। ২৩
দেহেন্দ্রিয়প্রাণমনোধিয়োঽমী যদংশবিদ্ধাঃ প্রচরন্তি কর্মসু।
নৈবান্যদা লোহমিবাপ্রতপ্তং স্থানেষু তদ্ দ্রষ্ট্রপদেশমেতি।। ২৪
ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় মহানুভাবায় মহাবিভূতিপতয়ে সকলসাত্বতপরিবৃঢ়নি-
করকরকমলকুড্মলোপলাতিচরণারবিন্দযুগল'। পরমপরমেষ্ঠিন্নমস্তে।। ২৫
সহজ বঙ্গানুবাদ
শ্লোক ১৮।
এই মন্ত্রের সূচনাতেই দেবর্ষি নারদ ভগবানের চতুর্ব্যূহ—বাসুদেব, সংকর্ষণ, প্রদ্যুম্ন ও অনিরুদ্ধ—এই চারটি মূল তত্ত্বকে একত্রে স্মরণ ও প্রণাম করছেন। এখানে ভগবানকে কেবল একটি ব্যক্তিরূপে নয়, বরং সমগ্র চেতনা, মন, বুদ্ধি ও জীবতত্ত্বের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি হিসেবে উপলব্ধি করা হচ্ছে। ভক্ত এখানে অনুভব করে—এই জগতের অন্তরে, নিজের হৃদয়ের গভীরে, এবং সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে যিনি নানা রূপে প্রকাশিত—তিনিই পরম ভগবান। এইভাবে ধ্যান করতে করতে ভক্তের চিত্ত ধীরে ধীরে বহির্মুখতা ত্যাগ করে অন্তর্মুখী হয়ে ভগবানে নিবিষ্ট হয়।
শ্লোক ১৯।
এই শ্লোকে ভগবানকে ‘বিজ্ঞানমাত্র’ বলা হয়েছে—অর্থাৎ তিনি শুদ্ধ চৈতন্য, জড়তার লেশমাত্র নেই। তিনি পরমানন্দস্বরূপ—যাঁর মধ্যে কোনো অভাব নেই, কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই; তিনি নিজের মধ্যেই সম্পূর্ণ পরিতৃপ্ত, তাই তাঁকে আত্মারাম বলা হয়। তাঁর দৃষ্টিতে কোনো দ্বৈত নেই—ভাল-মন্দ, সুখ-দুঃখ, আমি-তুমি—এই সমস্ত ভেদ তাঁর কাছে মায়ামাত্র। ভক্ত যখন এই তত্ত্ব উপলব্ধি করে, তখন তার হৃদয়ে গভীর শান্তি নেমে আসে; কারণ সে বুঝতে শেখে—যে পরম সত্যকে সে খুঁজছে, তিনি তো সর্বদা পরিপূর্ণ, অপরিবর্তনীয় এবং অনন্ত আনন্দময়।
শ্লোক ২০।
এখানে বলা হচ্ছে—যিনি আত্মানন্দের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সমস্ত মায়াকে অতিক্রম করেছেন, সেই ভগবানকে প্রণাম। অর্থাৎ ভগবানের স্বরূপ উপলব্ধি হলে জগতের মায়াময় আকর্ষণ স্বতঃসিদ্ধভাবেই দূর হয়ে যায়। তাঁকে ‘হৃষীকেশ’ বলা হয়েছে—সমস্ত ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্তা; অর্থাৎ আমাদের চোখ, কান, মন—সবই তাঁর অধীন। তিনি ‘বিশ্বরূপ’—এই সমগ্র জগৎই তাঁর এক বিস্তৃত প্রকাশ। ভক্তের জন্য এই উপলব্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যখন সে নিজের ইন্দ্রিয়কে ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করে, তখনই জীবনের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি হয়।
শ্লোক ২১।
এই শ্লোকে ভগবানের অচিন্ত্য ও অবর্ণনীয় স্বরূপ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এমন এক পরম সত্য, যিনি বাক্য দ্বারা বর্ণনা করা যায় না, মন দিয়েও সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা যায় না। তাঁর কোনো নির্দিষ্ট নাম বা রূপ নেই—তিনি শুদ্ধ চৈতন্যমাত্র। তিনি কারণ (সৎ) ও কার্য (অসৎ)—উভয়েরই অতীত। অর্থাৎ জগতের যে সমস্ত দ্বন্দ্ব—সৃষ্টি ও বিনাশ, স্থূল ও সূক্ষ্ম—সবকিছুর ঊর্ধ্বে তিনি অবস্থান করেন। এই উপলব্ধি ভক্তকে বিনম্র করে, কারণ তখন সে বুঝতে পারে—ভগবানকে যুক্তি দিয়ে নয়, কেবল ভক্তির মাধ্যমেই উপলব্ধি করা সম্ভব।
শ্লোক ২২।
এই শ্লোকে সৃষ্টিতত্ত্ব অত্যন্ত সুন্দর উপমার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে। যেমন সমস্ত মাটির পাত্র আসলে মাটি থেকেই সৃষ্টি, মাটিতেই স্থিত, এবং শেষে মাটিতেই লয় পায়—তেমনই এই সমগ্র জগৎ ভগবান থেকেই উৎপন্ন, তাঁর মধ্যেই স্থিত, এবং শেষে তাঁর মধ্যেই লীন হয়। এই উপলব্ধি হলে জগতের বহুত্ব আর বিভ্রান্ত করে না; ভক্ত বুঝতে পারে—সবকিছুই এক পরম সত্যের বিভিন্ন প্রকাশ মাত্র।
শ্লোক ২৩।
এখানে ভগবানের এক বিরাট বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে—তিনি মন, বুদ্ধি, ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধ নন; অর্থাৎ তাঁকে কোনো প্রাকৃত উপায়ে জানা যায় না। তবুও তিনি সর্বত্র বিরাজমান—অন্তরে ও বাহিরে, ঠিক আকাশের মতো সর্বব্যাপী। আকাশকে যেমন ধরা যায় না, কিন্তু সর্বত্র অনুভব করা যায়—তেমনই ভগবান। এই উপলব্ধি ভক্তের হৃদয়ে এক বিশেষ ভাব জাগায়—ভগবান দূরে নন, তিনি সর্বদা সঙ্গেই আছেন, কিন্তু তাঁকে উপলব্ধি করতে হলে হৃদয়ের শুদ্ধতা প্রয়োজন।
শ্লোক ২৪।
এই শ্লোকে জীবের কর্তা-ভাব ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমাদের দেহ, ইন্দ্রিয়, প্রাণ, মন ও বুদ্ধি—সবই ভগবানের শক্তির দ্বারা পরিচালিত। আমরা মনে করি—“আমি করছি”, কিন্তু বাস্তবে সেই শক্তির উৎস ভগবান। যেমন আগুনে উত্তপ্ত না হলে লোহা নিজে কিছু করতে পারে না, তেমনই ভগবানের শক্তি ছাড়া জীব এক মুহূর্তও কার্য করতে পারে না। এই উপলব্ধি জন্মালে অহংকার দূর হয় এবং ভক্তির জন্ম হয়—জীব তখন নিজেকে ভগবানের দাসরূপে উপলব্ধি করে।
শ্লোক ২৫।
শেষ শ্লোকে ভক্তির চূড়ান্ত পরিণতি প্রকাশ পেয়েছে—সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ। এখানে ভগবানকে ‘মহাপুরুষ’, ‘মহাবিভূতিপতি’, ‘পরম পরমেষ্ঠী’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে—অর্থাৎ তিনি সকল মহিমা, ঐশ্বর্য ও শক্তির একমাত্র আধার। তাঁর চরণকমলে সকল ভক্তবৃন্দ নত হয়ে থাকে। এই উপলব্ধির শেষে ভক্তের আর কিছু বলার থাকে না—সে কেবল অন্তর দিয়ে অনুভব করে, “আমি কিছুই নই—সবই তুমি।” এই অবস্থাই প্রকৃত শরণাগতি, যা ভক্তিকে তার পরিপূর্ণতায় পৌঁছে দেয়।
বিদ্যাধর হচ্ছেন তারাই যারা নানা রকম জপ তপ সাধনা করে নানা সিদ্ধি লাভ করেছেন। চিত্রকেতু দেবর্ষি নারদ কর্তৃক প্রদত্ত মন্ত্রে এমন সিদ্ধি লাভ করলেন যে তিনি এই সকল বিদ্যাধরগণের অধিপতি হয়ে আকাশ মার্গে ও অন্তরীক্ষে সর্বত্র বিচরণ করার ক্ষমতা লাভ করলেন। এরপর মন্ত্রশক্তির প্রভাবে তাঁর অন্তর আরও উদ্ভাসিত হয়ে উঠল এবং তিনি এক মঙ্গলময়, দিব্য গতি লাভ করে দেবাদিদেব শ্রী সংকর্ষণের চরণসমীপে উপনীত হলেন।
সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি যে দর্শন লাভ করলেন, তা এক অপরূপ দিব্য রূপ। শ্রী সংকর্ষণদেব সিদ্ধপুরুষদের দ্বারা পরিবেষ্টিত, তাঁর দেহকান্তি মৃণালের মতো শুভ্র, পরিধানে নীলাম্বর, দেহে কিরীট, কঙ্কণ, কেয়ূর প্রভৃতি অলংকার শোভা পাচ্ছে। তাঁর মুখে প্রসন্নতা, চোক্ষে করুণার অরুণ আভা।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক অনিন্দ্য সুন্দর প্রকাশ হলেন শ্রী সংকর্ষণ, তার চতুর্ব্যুহ প্রকাশের অন্যতম।
শ্রীমদ্ভাগবতমে শ্রী শুকদেব গোস্বামী পরীক্ষিত মহারাজ কে বলছেন সৃষ্টির সূচনাকালে ভগবানের চিৎশক্তি, যা ‘ভগবদ্বীর্য’ নামে পরিচিত, তার থেকেই প্রথমে ‘মহত্তত্ত্ব’-এর উদ্ভব হয়। এই মহত্তত্ত্ব যখন বিকার বা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তার থেকে ‘অহংকারতত্ত্ব’-এর জন্ম হয়—যা মূলত ক্রিয়াশক্তির আধার। এই অহংকারই জীবের ‘আমি’ ভাবের সূচনা করে এবং সৃষ্টির বহুমাত্রিক প্রকাশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ॥
এই অহংকারতত্ত্ব আবার তিন রূপে বিভক্ত—সাত্ত্বিক (বৈকারিক), রাজসিক (তৈজস) ও তামসিক। এই তিন গুণের প্রভাবে অহংকার থেকেই মন, ইন্দ্রিয়সমূহ এবং পঞ্চমহাভূতের উৎপত্তি ঘটে। অর্থাৎ আমরা যে জগতকে অনুভব করি—দেখি, শুনি, স্পর্শ করি—সবকিছুর মূলেই এই অহংকারতত্ত্ব কার্যকর।
শাস্ত্রকারগণ এই মন, ইন্দ্রিয় ও ভূতসমষ্টির মূল উৎস এই অহংকারতত্ত্বকেই ভগবান শ্রীসংকর্ষণের প্রকাশরূপ বলে বর্ণনা করেছেন। সহস্রশীর্ষ অনন্তদেব, যিনি সমস্ত জগতকে ধারণ করে আছেন, তিনিই এই সংকর্ষণ—অর্থাৎ সমস্ত জীব ও বিশ্বতত্ত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করে রাখেন।
এই অহংকারতত্ত্বের মধ্যেই তিনটি প্রধান লক্ষণ প্রকাশ পায়—
দেবতাদের মধ্যে এটি ‘কর্তৃত্বশক্তি’ হিসেবে প্রকাশিত হয়, ইন্দ্রিয়সমূহের মধ্যে ‘করণ’ বা কার্যসম্পাদনের শক্তি হিসেবে এবং পঞ্চমহাভূতের মধ্যে ‘কার্য’ বা দৃশ্যমান জগতের রূপে প্রকাশিত হয়। এইভাবেই ভগবান সংকর্ষণ সমগ্র সৃষ্টি জগতের অন্তর্নিহিত শক্তি হিসেবে বিরাজমান। (শ্রীমদ্ভাগবতম, তৃতীয় স্কন্দ, ষড়বিংশ অধ্যায়, শ্লোক সংখ্যা ২৩ থেকে ২৬)।
কারণ সমুদ্রে শায়িত, চিৎ-জগতের এই মহৎতত্ব স্বরূপ মহাসংকর্ষণের কলা, মহা বিষ্ণুর থেকে অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্ট হয়ে মায়া দ্বারা পরিবৃত্ত হয়ে ভাসমান রত থাকে। প্রতিটি ব্রহ্মাণ্ডের যে সর্বশেষ লোক অর্থাৎ পাতালের মূলদেশ থেকে ৩০ হাজার যোজন নিচে সমস্ত জাগতিক জগতের ধারক, বাহক, মূল চালিকাশক্তি এবং অধীশ্বর রূপে তিনিই আবার মহাসংকর্ষণের তামসী কলা ভগবান অনন্ত সংকর্ষণ রূপে অবস্থান করেন।
ভগবান অনন্ত বা সংকর্ষণ তত্ত্বকে পাঞ্চরাত্র শাস্ত্রে অত্যন্ত গূঢ়ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি অহংকারতত্ত্বরূপে দ্রষ্টা ও দৃশ্য—এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। অর্থাৎ জগতে যে ‘আমি’ এবং ‘আমার দেখা’—এই দুইয়ের ঐক্য সাধন করেন বলেই তাঁকে ‘সংকর্ষণ’ বলা হয়, যিনি সমস্ত কিছু নিজের মধ্যে আকর্ষণ করে একত্রিত করেন। ভগবান অনন্তের সহস্র মস্তক রয়েছে। তাঁর সেই অসংখ্য শীর্ষের মধ্যে একটি মাত্র শীর্ষের উপর এই সমগ্র পৃথিবীমণ্ডল সর্ষের দানার মতো ক্ষুদ্ররূপে অবস্থান করছে। এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে তাঁর অসীম শক্তি ও মহিমা—যার তুলনা মানববুদ্ধির অতীত। প্রলয়কালে যখন তিনি বিশ্বসংহার করতে ইচ্ছা করেন, তখন তাঁর সুন্দর ভ্রাম্যমান ভ্রূকুটির মধ্য থেকে এক বিশেষ রুদ্রশক্তির প্রকাশ ঘটে। সেই রুদ্র একাদশ রূপে বিভক্ত, ত্রিনয়নযুক্ত এবং ত্রিশূলধারী। এই রুদ্রই বিশ্বসংহারের কার্য সম্পাদন করেন, যা সংকর্ষণ তত্ত্বর এক ভয়ংকর কিন্তু নিয়ন্ত্রিত প্রকাশ।
ভগবান অনন্তের পদকমলের নখসমূহ অরুণবর্ণ ও অত্যন্ত উজ্জ্বল, যেন রত্নখচিত আয়নার মতো দীপ্তিমান। নাগরাজ ও অন্যান্য ভক্তগণ যখন ভক্তিভরে তাঁকে প্রণাম করেন, তখন তাঁদের মুখমণ্ডল সেই নখরূপী দর্পণে প্রতিফলিত হয়। সেই দৃশ্য ভক্তদের জন্য এক অপূর্ব আনন্দের উৎস হয়ে ওঠে। নাগকন্যাগণ ভগবান অনন্তের সেবা করতে গিয়ে তাঁর দীর্ঘ, শুভ্র ও রূপার স্তম্ভের মতো বাহুতে চন্দন ও সুগন্ধি অর্ঘ্য নিবেদন করেন। তাঁর দিব্য স্পর্শে তাঁদের হৃদয়ে ভক্তি ও প্রেমের আবেগ জাগ্রত হয়। লজ্জা ও অনুরাগভরে তারা তাঁর চরণকমলের দিকে চেয়ে থাকে—যা ভক্তির এক অনন্য চিত্র।
এইভাবে অসীম গুণের আধার ভগবান অনন্ত স্বীয় ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতাকে সংযত করে সমগ্র জগতের কল্যাণের জন্য স্থিত হয়ে আছেন। তিনি কেবল শক্তির আধারই নন, বরং দয়াময় রক্ষাকর্তা। দেবতা, অসুর, নাগ, সিদ্ধ, গন্ধর্ব, বিদ্যাধর ও মুনিগণ সর্বদা ভগবান অনন্তের ধ্যান করেন। তাঁর নয়ন সর্বদা প্রেমে পরিপূর্ণ, চঞ্চল ও করুণাময়। তিনি মধুর বচনে ভক্ত ও দেবগণকে আনন্দিত করেন। তাঁর কণ্ঠে বৈজয়ন্তী মালা শোভা পায়, যার সুগন্ধে মধুকরগণ আকৃষ্ট হয়ে গুঞ্জন করতে থাকে।
এই ভগবান অনন্তের মাহাত্ম্য শ্রবণ বা ধ্যান করলে, তিনি ভক্তের হৃদয়ে প্রবেশ করে অনাদিকালের সঞ্চিত কর্ম, বাসনা ও অজ্ঞানরূপ গ্রন্থিকে ছিন্ন করেন। তাই মুক্তি কামনাকারী মানুষের জন্য তাঁর শরণ গ্রহণই সর্বোত্তম পথ। দেবর্ষি নারদও তুম্বুরুর সহিত এই মহিমা ব্রহ্মার সভায় গেয়ে থাকেন। এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়—সবই তাঁর দৃষ্টির অধীন। তিনি এক হয়েও বহু রূপে এই জগতকে ধারণ করেন। তাঁর প্রকৃত স্বরূপ অনন্ত, অনাদি ও অচিন্ত্য। তাই তাঁকে সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করা সাধারণ জীবের পক্ষে অসম্ভব।
তিনি ভক্তদের চিত্ত আকর্ষণ করেন এবং অবতার সকল রূপে তাঁর বীরত্বপূর্ণ লীলা সকলের কাছে আদর্শস্বরূপ। তাঁর নামমাত্র উচ্চারণ করলেও—সে তা ভক্তিভরে হোক, অজান্তে হোক বা কষ্টের সময়—পাপ বিনষ্ট হয়। এমন দয়াময় ভগবানকে ত্যাগ করে অন্য কার আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে? এই সমগ্র ভূমণ্ডল—নদী, পর্বত ও সমুদ্রসহ—ভগবান অনন্তের একটি মাত্র মস্তকের উপর ক্ষুদ্র বালুকণার ন্যায় অবস্থান করছে। তাঁর শক্তির কোনো সীমা নেই; সহস্র জিহ্বা দিয়েও তাঁর গুণকীর্তন সম্পূর্ণ করা যায় না। অবশেষে বলা হয়, সেই ভগবান অনন্ত রসাতলের মূলদেশে অবস্থান করে স্বীয় মহিমায় স্থিত থেকে সমগ্র পৃথিবীর স্থিতি রক্ষা করছেন। তিনি সর্বশক্তিমান, সর্বাধার এবং সকল অস্তিত্বের চূড়ান্ত ভিত্তি।
শাস্ত্রীয় তত্ত্ব অনুযায়ী ভগবান সংকর্ষণ কেবল এক দিব্য রূপ নন, তিনি এক গভীর তত্ত্বের অধিষ্ঠাতা। পাঞ্চরাত্র ও ভাগবতীয় দর্শনে ভগবান সংকর্ষণকে অহংকারতত্ত্বর মূল হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যিনি জড় ও চৈতন্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। এই তত্ত্বর জাগতিক বা কার্যরূপ প্রকাশই হলেন মহাদেব শঙ্কর। অর্থাৎ শঙ্কর হলেন সেই সংকর্ষণ তত্ত্বর জড়জাগতিক বিশ্বে কার্যকর প্রকাশ। ভূতনাথ শঙ্করের ইষ্টদেব স্বয়ং ভগবান সংকর্ষণ। শঙ্কর নিজেও এই সর্বাধার তত্ত্বর প্রতি সর্বদা নিবেদিত এবং তাঁর উপাসনার মধ্য দিয়েই সংকর্ষণের মহিমা প্রকাশ পায়।
শ্রীমদ্ভাগবতের পঞ্চম স্কন্দের ১৭ তম অধ্যায়ে মহাদেব স্বয়ং ভগবান সংকর্ষণের স্তব করেন। সেখানে তিনি সংকর্ষণকে সর্বকারণের কারণ, অনাদি, অনন্ত এবং সর্বব্যাপী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মহাদেব বলেন—এই জগতে যা কিছু সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয় ঘটে, সবই তাঁর ইচ্ছাশক্তির দ্বারা পরিচালিত। তিনি ভক্তদের হৃদয়ে অবস্থান করে তাদের অজ্ঞান ও বন্ধন ছিন্ন করেন। তাঁর মহিমা অনন্ত, তাঁর শক্তি অপরিমেয়, এবং তিনি সকল দেবতারও অধিষ্ঠাতা। এইভাবে মহাদেব নিজেই ঘোষণা করেন যে, ভগবান সংকর্ষণই সর্বোচ্চ আশ্রয় এবং ভক্তদের জন্য পরম গন্তব্য।
শ্রীমদ্ভাগবতম: পঞ্চম স্কন্দ: সপ্তদশ অধ্যায়
শ্রীভগবানুবাচ
ওঁ নমো ভগবতে মহাপুরুষায় সর্বগুণসঙ্খ্যানায়ানন্তায়াব্যক্তায় নম ইতি।। ১৭
ভজে ভজন্যারণপাদপঙ্কজং
ভগস্য কৃৎস্নস্য পরং পরায়ণম্।
ভক্তেম্বলং ভাবিতভূতভাবনং
ভবাপহং ত্বা ভবভাবমীশ্বরম্ ।। ১৮
ন যস্য মায়াগুণচিত্তবৃত্তিভি-
নিরীক্ষতো হ্যগ্নপি দৃষ্টিরজ্যতে।
ঈশে যথা নোঽজিতমন্যুরংহসাং
কস্তং ন মন্যেত জিগীষুরাত্মনঃ।। ১৯
অসদ্দৃশো যঃ প্রতিভাতি মায়য়া
ক্ষীবেব মধ্বাসবতাম্রলোচনঃ।
ন নাগবধ্বোঽর্হণ ঈশিরে হ্রিয়া
যৎপাদয়োঃ স্পর্শনধর্ষিতেন্দ্রিয়াঃ।। ২০
যমাহুরস্য স্থিতিজন্মসংযমং
ত্রিভির্বিহীনং যমনন্তমূষয়ঃ।
ন বেদ সিদ্ধার্থমিব কচিৎ স্থিতং
ভূমণ্ডলং মূর্ধসহস্রধামসু ।। ২১
যস্যাদ্য আসীদ্ গুণবিগ্রহো মহান্
বিজ্ঞানধিষ্ণ্যো ভগবানজঃ কিল।
যৎসম্ভবোহহং ত্রিবৃতা স্বতেজসা
বৈকারিকং তামসমৈন্দ্রিয়ঃ সৃজে।। ২২
এতে বয়ং যস্য বশে মহাত্মনঃ
স্থিতাঃ শকুন্তা ইব সূত্রযন্ত্রিতাঃ।
মহানহং বৈকৃততামসেন্দ্রিয়াঃ
সৃজাম সর্বে যদনুগ্রহাদিদম্।। ২৩
যন্নির্মিতাং ক্যপি কর্মপর্বণীং
মায়াং জনোঽয়ং গুণসর্গমোহিতঃ।
ন বেদ নিস্তারণযোগমঞ্জসা
তস্মৈ নমস্তে বিলয়োদয়াত্মনে। ২৪
মহাদেব কর্তৃক ভগবান সংকর্ষণ-স্তবের সহজ বঙ্গানুবাদ
🔸 শ্লোক ১৭–১৮
ভগবান শংকর বলেন—“ওঁ! যাঁর থেকে সমস্ত গুণের প্রকাশ ঘটে, যিনি অনন্ত ও অব্যক্ত মূর্তি, সেই ওঙ্কার-স্বরূপ পরমপুরুষ শ্রীভগবানকে আমি প্রণাম জানাই। হে প্রভু! আপনার চরণকমলই ভক্তদের একমাত্র আশ্রয়স্থল। আপনি ভক্তদের সামনে নিজের পূর্ণ দিব্যরূপ প্রকাশ করেন এবং তাঁদের সংসারবন্ধন থেকে মুক্তি দেন। কিন্তু যারা ভক্ত নয়, তারা আপনার মায়ায় আবদ্ধ থাকে। হে সর্বেশ্বর! আমি আপনাকেই ভজন করি।”
মহাদেব এই স্তবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে—ভগবান সংকর্ষণই সর্বকারণের কারণ, তিনিই মায়ার নিয়ন্ত্রক, তিনিই ভক্তদের মুক্তিদাতা এবং সমগ্র জগতের একমাত্র আশ্রয়।
শ্লোক ১৯
“হে প্রভু! আমরা ক্রোধকে জয় করতে পারিনি, আমাদের দৃষ্টি অনেক সময় পাপে লিপ্ত হয়। কিন্তু আপনি তো সর্বদা এই জগতের নিরপেক্ষ সাক্ষী—সবকিছু দেখেন, তবুও কখনো মায়ার দ্বারা স্পর্শিত হন না। এমন অবস্থায়, যে ব্যক্তি নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সে কেনই বা আপনার আরাধনা করবে না?”
শ্লোক ২০
“যারা আপনার নিমিলিত চোখ দেখে আপনাকে মদ্যপ বা ভোগে মত্ত বলে মনে করে, তারা আসলে মায়ার প্রভাবে বিভ্রান্ত হয়ে এই ভুল ধারণা করে। আপনার চরণস্পর্শেই নাগকন্যাদের হৃদয়ে প্রেমের জাগরণ হয়, আর সেই লজ্জা ও ভক্তিভাবের কারণে তারা আপনার পূজায় সম্পূর্ণভাবে নিবিষ্ট হতে পারে না।”
শ্লোক ২১
“বেদসমূহ আপনাকে এই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়ের কারণ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু আপনি এই তিন প্রকার বিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত—এইজন্যই আপনার নাম ‘অনন্ত’। আপনার সহস্র মস্তকের একটির উপর এই সমগ্র ভূমণ্ডল সর্ষের দানার মতো অবস্থান করছে, যা আপনার কাছে তুচ্ছ।”
শ্লোক ২২
“যাঁর থেকে আমি উৎপন্ন হয়ে অহংকারতত্ত্বর মাধ্যমে দেবতা, ইন্দ্রিয় ও ভৌতিক উপাদান সৃষ্টি করি—সেই ব্রহ্মাও আসলে আপনারই প্রকাশ, মহত্তত্ত্বরূপ প্রথম গুণময় স্বরূপ।”
শ্লোক ২৩
“হে মহাত্মা! মহত্তত্ত্ব, অহংকার, ইন্দ্রিয়, ইন্দ্রিয়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবতা এবং পঞ্চভূত—আমরা সকলে যেন সুতোয় বাঁধা পাখির মতো আপনার শক্তির অধীন। আপনার কৃপা ছাড়া আমরা কেউই কিছু করতে পারি না, আপনার ইচ্ছাতেই এই জগতের সৃষ্টি ও কার্য পরিচালিত হয়।”
শ্লোক ২৪
“এই মায়া আপনারই সৃষ্টি। এই মায়ার দ্বারা মোহিত হয়ে মানুষ কর্মবন্ধনে আবদ্ধ হয়। যদিও তারা জানে যে এটি বন্ধনের কারণ, তবুও সহজে এর থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পায় না। এই জগতের সৃষ্টি ও লয়—সবই আপনার রূপ। এমন আপনাকে আমি বারংবার প্রণাম জানাই।”
মহাদেব এই স্তবে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে—ভগবান সংকর্ষণই সর্বকারণের কারণ, তিনিই মায়ার নিয়ন্ত্রক, তিনিই ভক্তদের মুক্তিদাতা এবং সমগ্র জগতের একমাত্র আশ্রয়।
ভগবানের সেই দর্শনমাত্রেই চিত্রকেতুর সমস্ত পাপ, সমস্ত অশুদ্ধি যেন মুহূর্তে বিলীন হয়ে গেল। তাঁর অন্তঃকরণ সম্পূর্ণ নির্মল ও শান্ত হয়ে উঠল। ভক্তিভাব এমনভাবে জেগে উঠল যে তাঁর চোখে অশ্রু, শরীরে রোমাঞ্চ, হৃদয়ে গভীর আনন্দ ও বিস্ময় একসাথে প্রকাশ পেল। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সেই আদিপুরুষের শরণে সমর্পণ করে ভক্তিভরে প্রণাম করলেন। প্রেমের এমন উচ্ছ্বাস হল যে তাঁর নয়ন থেকে অবিরাম অশ্রুধারা প্রবাহিত হয়ে ভগবানের পাদপদ্মকে সিক্ত করতে লাগল। তাঁর কণ্ঠ আবেগে রুদ্ধ হয়ে গেল—তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। এই অবস্থাই প্রকৃত ভক্তির লক্ষণ—যেখানে ভাষা স্তব্ধ হয়ে যায়, আর হৃদয় নিজেই প্রার্থনা হয়ে ওঠে।
কিছুক্ষণ পরে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে সংযত করলেন। বিবেক-বুদ্ধির দ্বারা মনকে স্থির করলেন, ইন্দ্রিয়সমূহকে বাহ্য জগত থেকে প্রত্যাহার করলেন এবং শাস্ত্রে বর্ণিত সচ্চিদানন্দময় জগদ্গুরু শ্রীসংকর্ষণদেবকে ভক্তিভরে স্তব করতে আরম্ভ করলেন। এই মুহূর্তে তাঁর স্তব আর কেবল শব্দ নয়—তা হয়ে উঠল উপলব্ধির ভাষা, হৃদয়ের আরাধনা।
চিত্রকেতু কৃত ভগবান সংকর্ষণের স্তব
শ্রীমদ্ভাগবতম : ষষ্ঠ স্কন্দ : ষোড়শ অধ্যায়
চিত্রকেতুরুবাচ
অজিত জিতঃ সমমতিভিঃ সাধুভির্ভবান্ জিতাত্মভির্ভবতা।
বিজিতাস্তেঽপি চ ভজতামকামাত্মনাং য আত্মদোঽতিকরুণঃ ।। ৩৪
তব বিভবঃ খলু ভগবন্ জগদুদয়স্থিতিলয়াদীনি'"।
বিশ্বসৃজস্তেহশাংশা-স্তত্র মৃষা স্পর্ধন্তে পৃথগভিমত্যা৷৷ ৩৫
পরমাণুপরমমহতো-স্তমাদ্যন্তান্তরবর্তী ত্রয়বিধুরঃ।
আদাবন্তেঽপি চ সত্ত্বানাং যদধ্রুবং তদেবান্তরালেঽপি।। ৩৬
ক্ষিত্যাদিভিরেষ কিলাবৃতঃ সপ্তভির্দশগুণোত্তরৈরান্ডকোশঃ।
যত্র পতত্যণুকল্পঃ সহান্ডকোটিকোটিভিস্তদনন্তঃ ।। ৩৭
বিষয়তৃযো নরপশবো য উপাসতে বিভূতীর্ন পরং ত্বাম্।
তেষামাশিষ ঈশ তদনু বিনশ্যন্তি যথা রাজকুলম্ ।। ৩৮
কামধিয়স্ত্বয়ি রচিতা ন পরম রোহন্তি যথা করম্ভবীজানি।
জ্ঞানাত্মন্যগুণময়ে গুণগণতোহস্য দ্বন্দ্বজালানি।। ৩৯
জিতমজিত তদা ভবতা যদাঽহ ভাগবতং ধর্মমনবদ্যম্।
নিষ্কিঞ্চনা যে মুনয় আত্মারামা যমুপাসতেঽপবর্গায়।। ৪০
বিষমমতির্ন যত্র নৃণাং ত্বমহমিতি মম তবেতি চ যদন্যত্র।
বিষমধিয়া রচিতো যঃ স হ্যবিশুদ্ধঃ ক্ষয়িষ্ণুরধর্মবহুলঃ।। ৪১
কঃ ক্ষেমো নিজপরয়োঃ কিয়ানর্থঃ স্বপরদ্রুহা ধর্মেণ।
স্বদ্রোহাৎ তব কোপঃ পরসম্পীড়য়া চ তথাধর্মঃ। ৪২
ন ব্যভিচরতি তবেক্ষা যয়া হ্যভিহিতো ভাগবতো ধর্মঃ।
স্থিরচরসত্ত্বকদম্বেষ্ব-পৃথগ্ধিয়ো যমুপাসতে ত্বার্যাঃ ।। ৪৩
ন হি ভগবন্নঘটিতমিদং ত্বদ্দর্শনান্নৃণামখিলপাপক্ষয়ঃ'"।
যন্নামসকৃচ্ছ্রবণাৎ পুল্কসকোঽপি বিমুচ্যতে সংসারাৎ।। ৪৪
অথ ভগবন্ বয়মধুনা ত্বদবলোকপরিমৃষ্টাশয়মলাঃ।
সুরঋষিণা যদুদিতং তাবকেন কথমন্যথা ভবতি।। ৪৫
বিদিতমনন্ত সমস্তং তব জগদাত্মনো জনৈরিহাচরিতম্।
বিজ্ঞাপ্যং পরমগুরোঃ কিয়দিব সবিতুরিব খদ্যোতৈঃ।। ৪৬
নমস্তুভ্যং ভগবতে সকলজগৎস্থিতিলয়োদয়েশায়।
দুরবসিতাত্মগতয়ে কুযোগিনাং ভিদা পরমহংসায়।। ৪৭ ।।
যং বৈ শ্বসন্তমনু বিশ্বসৃজঃ শ্বসন্তি যং চেকিতানমনু চিত্তয় উচ্চকন্তি।
ভূমণ্ডলং সর্ষপায়তি যস্য মূর্ধ্নি তস্মৈ নমো ভগবতেঽস্ত সহস্রমূর্ধ্নে। ৪৮
সহজ বঙ্গানুবাদ
শ্লোক ৩৪।
চিত্রকেতু বললেন — হে অজিত! আপনি স্বভাবতই অজেয়—কেউ আপনাকে জয় করতে পারে না। তবুও আশ্চর্য এই যে, যেসব ভক্ত সংযতচিত্ত ও সমবুদ্ধি নিয়ে একনিষ্ঠভাবে আপনার ভজন করেন, আপনি নিজেই তাঁদের প্রেমে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। আবার আপনার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও অপরিসীম করুণার দ্বারা আপনি সেই ভক্তদের হৃদয়ও জয় করে নেন। সত্যিই আপনি ধন্য! কারণ যে ভক্ত নিঃস্বার্থভাবে আপনার সেবা করে, তার প্রতি আপনি এতটাই কৃপাবশ হন যে নিজের স্বরূপ পর্যন্ত তাকে দান করে দেন।
চিত্রকেতু নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সেই আদিপুরুষ ভগবান শ্রী সংকর্ষণের শরণে সমর্পণ করে ভক্তিভরে প্রণাম করে স্তব শুরু করলেন।
শ্লোক ৩৫।
হে ভগবান! এই জগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়—সবই আপনার লীলামাত্র। ব্রহ্মা, শিব প্রভৃতি যাঁদের আমরা বিশ্বনির্মাতা বলে জানি, তাঁরাও আপনার অংশের অংশমাত্র। অথচ তাঁরা নিজেদের পৃথক ঈশ্বর বলে মনে করে যে গর্ব করেন, তা আসলে অজ্ঞতার ফল। প্রকৃতপক্ষে সমস্ত শক্তির মূল উৎস আপনি একমাত্র।
শ্লোক ৩৬।
সূক্ষ্মতম পরমাণু থেকে শুরু করে মহত্তম তত্ত্ব পর্যন্ত—সবকিছুর আদি, মধ্য ও অন্তে আপনিই বিরাজমান। তাই আপনি কেবল সৃষ্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নন—আপনি আদি-অন্ত-মধ্য—এই তিনেরও অতীত। কারণ যে বস্তু দিয়ে কোনো কিছুর সৃষ্টি হয়, সেই বস্তুই তার শুরু, মধ্য ও শেষ—সেইভাবে সবকিছুর অন্তরে আপনিই আছেন।
শ্লোক ৩৭।
এই ব্রহ্মাণ্ড বহুস্তর দ্বারা আবৃত—প্রতিটি স্তর পূর্বের তুলনায় দশগুণ বৃহৎ। তবুও অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডসহ এই সমগ্র বিশ্ব আপনার কাছে যেন এক ক্ষুদ্র পরমাণুর মতো। এই অসীম বিস্তারের মধ্যেও আপনার সীমা নির্ধারণ করা যায় না। তাই আপনিই অনন্ত—অসীম ও অপরিমেয়।
শ্লোক ৩৮।
যারা কেবল ভোগবিলাসে আসক্ত, তারা আসলে মনুষ্যরূপী পশু। তারা দেবতাদের উপাসনা করে শুধুমাত্র ইন্দ্রিয়সুখ পাওয়ার জন্য, কিন্তু আপনাকে ভজনা করে না। অথচ সেই দেবতাদের অস্তিত্বই ক্ষণস্থায়ী। যেমন কোনো রাজ্য ধ্বংস হলে তার উপর নির্ভরশীলদের জীবিকা নষ্ট হয়, তেমনই ক্ষুদ্র দেবতার উপাসনায় প্রাপ্ত সুখও স্থায়ী হয় না।
শ্লোক ৩৯।
হে পরমেশ্বর! আপনি জ্ঞানস্বরূপ, নির্গুণ ও অতীন্দ্রিয়। যেমন ভাজা বীজ থেকে আর অঙ্কুর জন্মায় না, তেমনই আপনার প্রতি নিষ্কাম ভক্তি আর জন্ম-মৃত্যুর চক্র সৃষ্টি করে না। সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি—এই সমস্ত দ্বন্দ্ব গুণত্রয়ের কারণে হয়; কিন্তু আপনি যেহেতু নির্গুণ, তাই আপনার ভক্তিও জীবকে সেই দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে তুলে নেয়।
শ্লোক ৪০।
হে অজিত! আপনি যে বিশুদ্ধ ভাগবতধর্ম উপদেশ করেছেন, সেটিই সর্বোচ্চ পথ। কারণ সনকাদি ঋষিরাও, যারা সমস্ত কামনা ত্যাগ করে আত্মানন্দে স্থিত, তারাও মুক্তিলাভের জন্য এই ধর্মেরই আশ্রয় গ্রহণ করেন। এই ধর্মই জীবকে পরম লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।
শ্লোক ৪১।
এই ভাগবতধর্ম এতই নির্মল যে এতে কোনো ভেদবুদ্ধি নেই—‘আমি-তুমি’, ‘আমার-তোমার’—এই বিভেদ এখানে থাকে না। কিন্তু যে ধর্ম ভেদবুদ্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত, তা আসলে অশুদ্ধ ও ক্ষণস্থায়ী। কারণ তার মূলেই দ্বন্দ্ব ও অজ্ঞান রয়ে যায়।
শ্লোক ৪২।
সকাম ধর্ম নিজের ও অপরের—উভয়েরই অনিষ্ট সাধন করে। এতে প্রকৃত মঙ্গল হয় না। বরং এতে অহংকার, ক্রোধ ও দুঃখ জন্ম নেয়। ফলে তা ধর্মের রূপ ধরে থাকলেও শেষপর্যন্ত অধর্মে পরিণত হয়।
শ্লোক ৪৩।
হে ভগবান! আপনি যে দৃষ্টিতে ভাগবতধর্ম শিক্ষা দিয়েছেন, সেই ধর্ম পালন করলে কখনোই সত্যপথ থেকে বিচ্যুতি ঘটে না। এই কারণেই সাধু-মহাত্মারা সকল জীবের প্রতি সমবুদ্ধি ধারণ করে এই ধর্ম পালন করেন—তাঁরা স্থাবর-জঙ্গম সকলের মধ্যেই আপনাকে দর্শন করেন।
শ্লোক ৪৪।
হে প্রভু! আপনার দর্শনমাত্রেই মানুষের সমস্ত পাপ নাশ হয়—এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আপনার নাম একবার শ্রবণ করলেই চণ্ডাল পর্যন্ত সংসারবন্ধন থেকে মুক্ত হতে পারে—তাহলে আপনার সাক্ষাৎ দর্শনের মাহাত্ম্য কত মহান, তা সহজেই বোঝা যায়।
শ্লোক ৪৫।
হে প্রভু! আপনার দর্শন লাভ করে আমার অন্তঃকরণের সমস্ত অশুদ্ধি দূর হয়ে গেছে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ আপনার পরমভক্ত দেবর্ষি নারদ যে সত্য কথা বলেছেন, তা কখনোই মিথ্যা হতে পারে না।
শ্লোক ৪৬।
হে অনন্ত! আপনি সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ, সর্বান্তর্যামী। এই জগতে যা কিছু ঘটে, সবই আপনার জানা। যেমন জোনাকি সূর্যের সামনে নিজের আলো দেখাতে পারে না, তেমনই আপনার সামনে আমার কিছুই গোপন নেই—তাই আর কী নিবেদন করব!
শ্লোক ৪৭।
হে ভগবান! আপনিই এই জগতের স্রষ্টা, পালনকর্তা ও সংহারকর্তা। কিন্তু যারা ভেদবুদ্ধিতে আবদ্ধ, তারা আপনার প্রকৃত তত্ত্ব বুঝতে পারে না। আপনি পরমহংসদের উপলব্ধির অতিশুদ্ধ সত্য—সেই আপনাকে আমি প্রণাম করি।
শ্লোক ৪৮।
আপনার শক্তির দ্বারাই ব্রহ্মা প্রভৃতি দেবতারা তাঁদের কার্য সম্পাদন করতে পারেন। আপনার শক্তি থেকেই সমস্ত প্রাণী ইন্দ্রিয় দ্বারা জগৎকে অনুভব করে। এই সমগ্র পৃথিবী আপনার অসীম শক্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। সহস্রশীর্ষ অনন্তদেব—সেই আপনাকে আমি বারংবার প্রণাম জানাই।
এইভাবে বিদ্যাধরদের অধিপতি চিত্রকেতু যখন গভীর ভক্তিভরে ভগবান সংকর্ষণের স্তব করলেন শ্রীশুকদেব বললেন—হে মহারাজ পরীক্ষিৎ! তখন তাঁর সেই আন্তরিক ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান সংকর্ষণ তাঁকে উদ্দেশ করে কথা বলতে শুরু করলেন।
এক সেই তিনিই চিৎজগতের বৈকুণ্ঠে আত্মানন্দময় মহাসংকর্ষণরূপে, গোলোকধামে চিদানন্দময় শ্রীবলরামরূপে এবং পরমব্রহ্মরূপে শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ হয়ে শ্রীধাম বৃন্দাবনে নিত্যলীলায় মগ্ন থাকেন।
শ্রী ভগবান বললেন হে চিত্রকেতু! দেবর্ষি নারদ ও মহর্ষি অঙ্গিরা তোমাকে যে পরম বিদ্যা উপদেশ করেছিলেন, এবং তার সঙ্গে আমার দর্শনলাভ—এই দুইয়ের ফলে তুমি যথার্থ সিদ্ধিলাভ করেছ। তোমার জ্ঞান এখন সম্পূর্ণভাবে পরিপক্ব হয়েছে। জেনে রাখো—আমিই সমস্ত জীবের স্বরূপ, আমিই সকল জীবের অন্তর্গত আত্মা, এবং আমিই সকলের পালনকর্তা। বেদ, যাকে ‘শব্দব্রহ্ম’ (ওঁ) বলা হয়, এবং সেই বেদের দ্বারা উপলব্ধ ‘পরব্রহ্ম’—এই উভয়ই আমার নিত্য ও সত্য প্রকাশ।
এই জগৎ কার্য ও কারণ—এই দুই রূপে প্রকাশিত। এই কার্যকারণময় জগতের মধ্যে আত্মা সর্বত্র পরিব্যাপ্ত রয়েছে, আবার এই জগতও আত্মার মধ্যেই অবস্থিত। আর এই উভয়ের অন্তরে অধিষ্ঠানরূপে আমিই আছি। অর্থাৎ কার্য (জগৎ) ও কারণ (আত্মা)—এই দুটোই আসলে আমার মধ্যেই কল্পিত প্রকাশ।
যেমন একজন মানুষ স্বপ্ন দেখার সময় নিজের মধ্যেই পাহাড়, বন, নদী—সমস্ত জগতকে দেখে এবং স্বপ্নের মধ্যেই মনে করে—‘আমি জেগে আছি’, কিন্তু আসলে সবই স্বপ্ন—ঠিক তেমনই জীবের জাগরণ, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি—এই তিন অবস্থাই পরমেশ্বরের মায়া দ্বারা সৃষ্ট।
তাই এই অবস্থাগুলিকে সত্য মনে না করে, যে পরমাত্মা এই সব কিছুর সাক্ষী এবং মায়ার অতীত—তাঁকেই স্মরণ করা উচিত। গভীর নিদ্রার সময় মানুষ কিছুই দেখতে বা জানতে পারে না, তবুও জেগে উঠে সে বলে—“আমি ভালো (গভীর) ঘুমিয়েছিলাম, কিছুই জানতাম না।”
অর্থাৎ সেই অবস্থাতেও যে চৈতন্য ছিল, যার দ্বারা সে এই নিদ্রার আনন্দ অনুভব করেছে—সেই নির্গুণ চৈতন্যই (আত্মা) ব্রহ্ম, আর আমিই সেই ব্রহ্ম।
এই পরম প্রেমময় কৃপানিধান জগত গুরু ভগবান শ্রীসংকর্ষণ কলিযুগে শ্রীনিত্যানন্দ প্রভুরূপে এবং তার মূল স্বরূপ পরমব্রহ্ম স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুরূপে অবতীর্ণ হয়ে মায়াবদ্ধ জীবদের উদ্ধারের জন্য অকারণ কৃপাবশে পরম প্রেমময় হরিনাম ও নামসংকীর্তনের মহাপ্রেমৌষধ দান করে গিয়েছেন।
এইভাবে আমরা দেখতে পাই—যিনি জাগতিক সৃষ্টির মূল ভিত্তি অহংকারতত্ত্ব-এর অধিষ্ঠাতা, সেই ভগবান শ্রীসংকর্ষণ প্রত্যেক ব্রহ্মাণ্ডের অন্তরে সেই ব্রহ্মাণ্ডের ধারক, বাহক, চালিকা ও জীবনীশক্তির কেন্দ্ররূপে বিরাজমান।
সমস্ত জড় ও চেতন প্রকাশ তাঁর শক্তির উপরই প্রতিষ্ঠিত। আবার তিনিই ব্রহ্মাণ্ডের বাইরে মহাবিষ্ণুরূপে অসংখ্য ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি করেন।
এই সমস্ত রূপ তাঁর এক পরম তত্ত্বেরই বিভিন্ন কলা ও কলাংশ—রূপ ভিন্ন হলেও সত্তা এক ও অভিন্ন।
এই তত্ত্ব হৃদয়ে ধারণ করে আমরা পরবর্তী পর্বে প্রবেশ করব—যেখানে আমরা দেখব, কীভাবে এই বিদ্যাধরাধিপতি মহাভক্ত চিত্রকেতু, ভাগ্যের বিচিত্র খেলায় ও দেবী পার্বতীর অভিশাপে, পরবর্তীতে বৃত্রাসুররূপে অবতীর্ণ হলেন—এবং সেই অবস্থাতেও কীভাবে তাঁর ভক্তি অটুট রইল।
📖 আপনি কি বৃত্র গীতার পরবর্তী অংশ জানতে চান?
এই সিরিজে আমরা মহাভারতের গভীরে লুকিয়ে থাকা আধ্যাত্মিক তত্ত্ব একে একে তুলে ধরছি। পরবর্তী পর্বে জানুন — কীভাবে চিত্রকেতু বৃত্রাসুর রূপে জন্ম নিলেন এবং ভক্তির এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করলেন।
এছাড়াও মহাভারতের ভিতর অন্যান্য গীতা গুলি সম্পর্কে জানতে এবং এই গীতা গুলির প্রয়োজন সম্পর্কিত তথ্য এবং আমাদের এই 'মহাভারতের গভীরে গীতার অন্বেষণ' সিরিজের সম্পর্কে জানতে এখানে দেওয়া লিংকে ক্লিক করে পর্বটি পড়ে নিন।
❓ সাধারণ প্রশ্ন (FAQ)
১. বৃত্র গীতা কী?
বৃত্র গীতা মহাভারতের শান্তি পর্বে বর্ণিত এক আধ্যাত্মিক উপদেশ, যেখানে ভীষ্মদেব যুধিষ্ঠিরকে জীবনের গভীর তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেন।
২. বৃত্রাসুর কে ছিলেন?
বৃত্রাসুর বাহ্যিকভাবে অসুর হলেও অন্তরে তিনি ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর মহান ভক্ত এবং পূর্বজন্মে রাজা চিত্রকেতু ছিলেন।
৩. সংকর্ষণ তত্ত্ব কী?
সংকর্ষণ হলেন চতুর্ব্যূহের একটি রূপ, যিনি অহংকারতত্ত্বের অধিষ্ঠাতা এবং সমগ্র সৃষ্টির ধারক।
৪. চিত্রকেতু কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চিত্রকেতু ভক্তির মাধ্যমে জীবনের চরম সত্য উপলব্ধি করেন এবং পরবর্তীতে বৃত্রাসুর রূপেও ভক্তি বজায় রাখেন।
৫. ভক্তির মাধ্যমে মুক্তি কীভাবে সম্ভব?
নিষ্কামভাবে ভগবানের শরণ গ্রহণ, নামসংকীর্তন এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মুক্তি সম্ভব।
👉 পরবর্তী পর্ব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে
শীঘ্রই প্রকাশিতব্য ▶