শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষ স্তোত্র | শরণাগতি তত্ত্ব | শ্রীমদ্ভাগবতম স্কন্দ ৮ অধ্যায় ৩
হরে কৃষ্ণ রাধে রাধে
গজেন্দ্র মোক্ষ স্তোত্রটির দার্শনিক গুরুত্ব এতই গভীর যে, শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু অনুগামী গৌড়ীয় বৈষ্ণব আচার্যগণ এবং দক্ষিণ ভারতের শ্রী-বৈষ্ণব আচার্যগণ তাঁদের বিভিন্ন টীকায় এর অনন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। গজেন্দ্র মোক্ষ স্তোত্র কেবল মুক্তির প্রার্থনা নয়, বরং এটি 'শরণাগতি' বা 'প্রপত্তি'-র এক শ্রেষ্ঠ উদাহরণ।
আচার্যগণ এই স্তোত্রকে 'শরণাগতি গদ্য' বা 'শরনাগতি শাস্ত্র' হিসেবে বিবেচনা করেছেন। গজেন্দ্র মোক্ষ কাহিনী আমাদের শেখায়— অহংকার ত্যাগ করে ভগবানের চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ বা শরণাগতিই হলো জীবনের শেষ কথা। আমরা এই সংসারে সবাই মায়ার কুমিরে কামড়ে ধরা পড়ে আছি। আমাদের শক্তি দিয়ে আমরা মুক্তি পাব না। আমাদের হাত তুলতে হবে ভগবানের দিকে। যে ব্যক্তি একাগ্র চিত্তে সর্বক্ষণ শ্রীকৃষ্ণকেই চিন্তা করেন, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি সেই ব্যক্তির এই যোগকে ( বলা যায় সমস্ত যোগের মধ্যে এটি সবথেকে উৎকৃষ্ট যোগ কারণ এটি ভক্তি যোগের চরম পর্যায় যেখানে ভক্ত নিজেকে কোন অবস্থাতেই ভগবান থেকে পৃথক ভাবে দেখতে চান না ) সংরক্ষণ করেন এবং যথাসময়ে তাকে পুনরায় এই যোগ মনে করিয়ে দিয়ে তাকে এই যোগের অপ্রাপ্য ফল, অর্থাৎ মোক্ষ প্রদান করেন। (অধ্যায়: ৯ শ্লোক: ২২)
"অনন্যাশ্চিন্তয়ন্তো মাং যে জনাঃ পর্যুপাসতে।
তেষাং নিত্যাভিযুক্তানাং যোগক্ষেমং বহাম্যহম্।।"
শ্রীমদ্ভাগবতম মহাপুরানের অষ্টম স্কন্দের তিন নম্বর অধ্যায়ের শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষ স্তুতি পর্ব তার অকাট্য প্রমাণ।
পরমানন্দ মাধবম (Paramananda Madhabam) ইউটিউব চ্যানেলে শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্রের তাৎপর্য আলোচনা কয়েকটি পর্বে হয়েছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং তাঁর লীলাকথা শ্রবণে উৎসাহী ভক্তবৃন্দ নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে এই সিরিজের প্রথম পর্বের আলোচনাটি শুনতে পাবেন।
ভগবান বলছেন— "হে গজেন্দ্র, যারা শেষ রাত্রে বা ব্রহ্মমুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে তোমার এই স্তব, আমাকে, এই হ্রদকে এবং এই পাহাড়কে স্মরণ করবে, আমি তাদের সমস্ত পাপ বিনাশ করব।" ভগবান এখানে গজেন্দ্রর নাম আগে নিয়েছেন। তিনি বলছেন, যারা আমার ভক্তকে আগে স্মরণ করবে, আমি তাদের বেশি কৃপা করি। আপনি যদি প্রতিদিন সকালে এই স্তোত্রটি পাঠ করেন, তবে আপনার সারাদিনের সমস্ত সাংসারিক দুঃখ কষ্ট, অশুভ চিন্তা এবং মানসিক অস্থিরতা দূর হবে, মায়া বন্ধন ছিন্ন করে মোক্ষ প্রাপ্তির পথ প্রশস্ত হবে।
শ্রীধর স্বামী ভাগবতের সবথেকে প্রামাণিক টীকাকার। তাঁর বিখ্যাত ‘ভাবার্থ দীপিকা’ গ্রন্থে তিনি শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্রের গূঢ় আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। শ্রীধর স্বামীর মতে, শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্র কেবল একটি হাতিকে কুমিরের হাত থেকে বাঁচানোর গাথা নয়, এটি একটি জীবাত্মার মায়া (সংসার) থেকে মুক্ত হয়ে পরমাত্মার চরণে শরণাগতির রূপক। নিচে আমরা সেই বিষয়েই একটু সংক্ষেপে আলোচনা করব।
শ্রীমদ্ভাগবতম এর শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষ কথায় আমরা দেখেছি যে, গজেন্দ্র (দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন ঐরাবত যে শ্রেনীর হস্তি তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বলশালী বা তাদের যিনি রাজা তিনি হলেন গজেন্দ্র) ত্রিকুট পর্বতের একটি সরোবরের জলে আনন্দ বিহার করতে গিয়ে গ্রাহের বা কুমিরের কবলে পড়েছিল। সে তার সমস্ত শারীরিক শক্তি দিয়ে নিজেকে সেই কুমিরের কামড় থেকে মুক্ত করার করার চেষ্টা করেছিল। প্রায় হাজার বছর ধরে প্রচন্ড সংগ্রাম করেও সে তার নিজের প্রবল শক্তি দিয়ে, তার পরিবার, তার স্ত্রী-পুত্র বা অন্যান্য সঙ্গী সাথীরা যখন কেউ তাকে রক্ষা করতে পারছে না, তখনই সে পরমেশ্বরকে ডাকতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল যে, এই জগত সংসারের কোনো শক্তিই তাকে এই কুমিরের কামড় (মায়ার বন্ধন) থেকে মুক্ত করতে পারবে না। তখনই সে তার পূর্বজন্মের অর্জিত সুপ্ত ভক্তি সংস্কার থেকে এই স্তোত্র পাঠ শুরু করল।
এই গজেন্দ্র পূর্বজন্মে ছিল দ্রাবিড় অঞ্চলের পাণ্ড্য দেশের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন। তিনি অত্যন্ত ধার্মিক ও বিষ্ণুভক্ত ছিলেন। বিষ্ণু ভক্তি করার জন্য তিনি একসময় রাজ্যপাট ত্যাগ করে বনে গিয়ে সদা সর্বদা ভগবানের চিন্তায় মগ্ন থাকতেন। তিনি যখন মলয় পর্বতে মৌন ব্রত অবলম্বন করে ভগবানের আরাধনা করছিলেন, একদিন সেখানে অগস্ত্য মুনি তাঁর শিষ্যদের নিয়ে উপস্থিত হন। রাজা চোখ খুলেই ভগবত ধ্যানে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে তিনি ঋষি আগমন অনুভব করতে পারেননি। অগস্ত্য মুনি ভাবলেন রাজা অত্যন্ত অহংকারী। তিনি অভিশাপ দিলেন— "এই রাজা হাতির মতো জড়বুদ্ধি সম্পন্ন, তাই সে হাতি হয়েই জন্মগ্রহণ করুক"। কিন্তু রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সদা সর্বদা ভগবানকে ডাকতেন বলেই হাতি যোনি প্রাপ্ত হওয়ার পরেও তাঁর সেই ভগবদ্ভক্তি হারিয়ে যায়নি। ভগবান তার যোগ এবং ক্ষেম দুটোই বহন করেছেন এবং সেটাই তাঁকে সংকটের সময় স্তোত্রটি মনে করিয়ে দিয়েছিল।
শ্লোক ও আলোচনা
এবং ব্যবসিতো বুদ্ধ্যা সমাধায় মনো হৃদি।
জজাপ পরমং জাপ্যং প্রাগ্জন্মন্যনুশিক্ষিতম॥ ১
শ্রীশুকদেব গোস্বামী বললেন— হে রাজন, গজেন্দ্র যখন এই প্রকারে স্থির বুদ্ধি করে মনকে হৃদয়ে স্থাপন করল এবং একাগ্র চিত্তে চিন্তা করতে লাগল, তখন সে তার পূর্বজন্মে অভ্যস্ত সেই পরম শক্তিশালী স্তোত্রটি জপ করতে শুরু করল। এখানে দেখা যাচ্ছে, গজেন্দ্র তার সাধারণ বুদ্ধি নয়, বরং 'ব্যবসিত বুদ্ধ্যা' অর্থাৎ স্থির বুদ্ধি ব্যবহার করছে। যখন মানুষের সাধারণ বুদ্ধি স্তব্ধ হয়ে যায়, তখনই এই স্থির বুদ্ধির উদয় হয় যা তাকে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করে।
শ্রীল জীব গোস্বামী বলেছেন যে, গজেন্দ্র যখন নিজের শক্তি, পরিবার এবং মদমত্ততার অহংকার হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃসহায় বোধ করলেন, তখনই তিনি ভগবানের শরণাপন্ন হন। তাঁর মতে, গজেন্দ্রের এই স্তব (গজেন্দ্র-স্তুতি) কোনো সাধারণ প্রার্থনা নয়, বরং এটি আত্মনিবেদন বা 'শরণাগতি'র একটি চরম নিদর্শন। যখন জীবের অন্য কোনো গতি থাকে না, তখন 'অনন্য ভক্তি'র উদয় হয়।
ওঁ নমো ভগবতে তস্মৈ যত এতচ্চিদাত্মকম্।
পুরুষায়াদিবীজায় পরেশায়াভিধীমহি॥ ২
গজেন্দ্র বললেন — যিনি এই জগতের মূল কারণ, যিনি চৈতন্যস্বরূপ পরম পুরুষ এবং যিনি সমস্ত সৃষ্টির আদি বীজ, সেই পরমেশ্বর ভগবানকে আমি নমস্কার করি। এখানে গজেন্দ্র ভগবানকে কেবল একজন রক্ষাকর্তা হিসেবে ডাকছে না, সে তাঁকে সমস্ত সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে স্বীকার করছে। তিনি চরাচর বিশ্বের আদি এবং অন্ত।
শ্রীধর স্বামী এখানে 'চিদাত্মক' শব্দের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর মতে, জগৎ অন্ধকার বা জড় নয়; এটি ঈশ্বরের চৈতন্যেরই প্রকাশ। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে ঈশ্বর জগতের উপাদান কারণ (Material Cause) এবং নিমিত্ত কারণ (Efficient Cause) দুই-ই। ব্রহ্ম সংহিতায় যেরকম ব্রহ্মা বলেছেন 'ঈশ্বর পরম কৃষ্ণ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ, অনাদির আদি গোবিন্দ সর্বকারণ কারণম'।
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলেন, গজেন্দ্র এখানে ভগবানকে 'ওঁ নমো ভগবতে তস্মৈ' বলে সম্বোধন করেছেন। এখানে 'তস্মৈ' (তাঁকে) শব্দটির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, ভগবান সৃষ্টির ঊর্ধ্বে থেকেও সৃষ্টির ভেতরে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন, ঠিক যেমন মাটির পাত্রে মাটি বর্তমান থাকে।
যোঽস্মাৎ পরস্মাচ্চ পরস্তং প্রপদ্যে স্বয়ম্ভুবম্॥ ৩
এই জগত যাঁর মধ্যে স্থিত, যাঁর থেকে উৎপন্ন হয়েছে, যাঁর দ্বারা এই জগত চলছে এবং যিনি নিজেই এই জগতরূপে বিরাজ করছেন—সেই স্বয়ম্ভু পরমেশ্বরকে আমি শরণ নিলাম। তিনি প্রকৃতি এবং পুরুষের ঊর্ধ্বে। অর্থাৎ এই দৃশ্যমান জগত যাঁর শক্তি থেকে এসেছে, তিনিই এর আসল আধার।
শ্রীধর স্বামী এই শ্লোকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেছেন। তাঁর মতে, এখানে অদ্বৈত বেদান্তের প্রতিফলন রয়েছে। তিনি বুঝিয়েছেন যে কার্য ও কারণের অভিন্নতা এখানে প্রকাশ পেয়েছে। অর্থাৎ, সোনার অলঙ্কার যেমন সোনা ছাড়া আর কিছু নয়, বিশ্বও ভগবান ছাড়া কিছু নয়।
অবিদ্ধদৃক্ সাক্ষ্যুভয়ং তদীক্ষতে স আত্মমূলোऽবতু মাং পরাৎ পরঃ ॥ ৪
যিনি তাঁর নিজস্ব মায়ার দ্বারা এই বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, যা কখনো প্রকাশিত হয় আবার কখনো লীন হয়ে যায়। তিনি মায়ার এই খেলাকে নির্লিপ্তভাবে দেখেন, তিনি সবকিছুর সাক্ষী। যিনি স্বয়ংপ্রকাশিত এবং আত্মার মূল, সেই পরাৎ পর ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করুন।
শ্রীধর স্বামী বলেন, এখানে গজেন্দ্র 'মনসা' (মনে মনে) জপ করছেন। তিনি কোনো লৌকিক দেবতাকে ডাকছেন না, বরং 'পরমেশ' বা আদি বীজকে ডাকছেন। ২ নম্বর শ্লোকে 'চিদাত্মকম্' শব্দটির ব্যাখ্যায় শ্রীধর স্বামী বলেন—যিনি স্বপ্রকাশ এবং যাঁর চৈতন্যে জগৎ প্রকাশিত হয়, তিনিই স্তব্যের বিষয়।
তমস্তদাঽসীদ্ গহনং গভীরং যস্তস্য পারেঽভিবিরাজতে বিভুঃ ॥ ৫
মহাকালের প্রভাবে যখন সমস্ত লোক এবং লোকপালগণ বিলীন হয়ে যায়, যখন চারিদিকে কেবল গভীর এবং নিবিড় অন্ধকার বিরাজ করে—সেই অন্ধকারের ওপারে যিনি স্বমহিমায় জ্যোতির্ময় হয়ে অবস্থান করেন, সেই বিভু পরমেশ্বরকে আমি বন্দনা করি।
যথা নটস্যাকৃতিভিবিচেষ্টতো দুরত্যয়ানুক্রমণঃ স মাবতু॥ ৬
ভগবান যখন এই নট বা অভিনেতার মতো বিভিন্ন রূপ ধারণ করেন, তখন আমরা যারা সাধারণ মানুষ—যাদের এখানে সাধারণ 'জীবজন্তু' আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ যারা মায়াবদ্ধ জীব—তারা তাঁকে চিনতেই পারি না। কেন পারি না? কারণ আমাদের দৃষ্টিশক্তি মায়া দ্বারা আবৃত। আমরা মনে করি আমরা খুব বুদ্ধিমান, আমরা বিজ্ঞান দিয়ে সবকিছু মেপে ফেলব। কিন্তু দেখুন, পর্দার ওপারে যিনি সুতোটা ধরে আছেন, তাঁকে বাদ দিয়ে আমরা এই পুতুলনাচ বুঝতে পারব না। আমরা যদি মনে করি সব জেনে গেছি, আমরাই সব কিছু করছি, তবে আমরা সেই মূর্খ দর্শকদের মতো যারা অভিনেতার সাজ দেখে তার অভিনয় ও সাজ পোশাককেই তাকেই সত্যি মনে করে। অথচ আসল মানুষটা তো অন্য কেউ। আশ্চর্যের বিষয় এখানে শুধু আমরা নয় স্বয়ং ব্রহ্মাও এই ধন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলেন যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীধাম বৃন্দাবনে তার বাল্যলীলার মাধ্যমে অবলীলায় মহাপরাক্রমশালী অগাসুরকে বধ করেছিলেন ও মুক্তি প্রদান করেছিলেন।
শ্রীধর স্বামী এই উপমাটির চমৎকার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, একজন নট (Actor) যখন মঞ্চে অভিনয় করেন, দর্শক কেবল তাঁর সাজপোশাক দেখে, তাঁর আসল পরিচয় জানে না। তেমনি ভগবান মায়ার আবরণে ঢাকা থাকেন বলে বড় বড় পণ্ডিতরাও তাঁকে চিনতে ভুল করেন। তিনি মূলত 'দুরত্যয়' বা সাধারণ বুদ্ধির অগম্য। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভাগবত গীতায় যেরকম নিজেই অর্জুনকে বলেছেন,
অবজানন্তি মাং মূঢ়া মানষীং তনুমাশ্রিতম্।
পরং ভাবমজানন্তো মম ভূতমহেশ্বরম্।। ৯.১১।।
অর্থ: আমি যখন মনুষ্য রূপে অবতীর্ণ হই তখন মূর্খরা আমার পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত না হয়ে আমাকে সর্বভূতের মহেশ্বর বলে না জেনে আমাকে অবজ্ঞা করে।
এটি কেবল একটি কুমিরের মুখ থেকে হাতির মুক্তির কথা নয়। এই গজেন্দ্র হলাম আমরা, আর এই কুমির হলো আমাদের মায়া এবং আসক্তি। আমরা সবাই এই সংসার রূপী হ্রদে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাদের একমাত্র উদ্ধারের পথ হলো এই গজেন্দ্র মোক্ষ স্তোত্র। প্রতিদিন এই স্তোত্র পাঠ করলে বা এর অর্থ মনে রাখলে আমাদের ভেতরে থাকা সেই 'মায়া-কুমির' থেকে ভগবান আমাদের রক্ষা করবেন।
এর পরবর্তী অংশে আমরা শ্রী গজেন্দ্র মোক্ষম স্তোত্রের আরো কয়েকটি স্তোত্র নিয়ে আবার আলোচনা করব তাই এই পেজটিকে বুক মার্ক করে রাখুন এবং পরবর্তী পর্বের জন্য নিচের সূচিপত্রের লিংক দেখুন।
