শ্রীকৃষ্ণের অষ্টতর শতনাম
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু কথিত, যে তিন জায়গায় তিনি সর্বদা নিত্য বিরাজ করবেন,
তাদের মধ্যে একটি শ্রীপাট খড়দহ তে নিত্যানন্দ প্রভুর আঙিনায় —
নিত্যানন্দ প্রভু প্রতিষ্ঠিত, নিত্যানন্দ প্রভুর শক্তি শ্রী জান্হবা মা ও
নিত্যানন্দ প্রভুর পুত্র শ্রী বীরভদ্র গোস্বামী সেবিত,
গত সাড়ে চারশো বছরেরও বেশি সময় ধরে নিত্য পুজিত ও সেবিত
শ্রীশ্রী রাধা শ্যামসুন্দর জিউ।
জয় জয় গোবিন্দ গোপাল গদাধর ।
কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণাসাগর ।।
জয় জয় গোবিন্দ গোপাল বনমালী ।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারি ।।
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দনাম বিনে ।
বিফলে মনুষ্য-জন্ম যায় দিনে দিনে ।।
দিন গেল মিছা কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ-চরণারবিন্দে ।।
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছা-মায়ায় বদ্ধ হ'য়ে বৃক্ষসম হৈনু ।।
ফলরূপে পুত্র-কন্যা ডাল ভাঙ্গি' পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে ।।
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে ।।
বসুদেব রাখি' আইল নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে ।।
শ্রীনন্দ রাখিল নাম 'নন্দের নন্দন'।
যশোদা রাখিল নাম 'যাদু বাছাধন' ।।
উপানন্দ নাম রাখে 'সুন্দর গোপাল' ।
ব্রজবালক নাম রাখে 'ঠাকুর রাখাল' ।।
সুবল রাখিল নাম 'ঠাকুর কানাই'।
শ্রীদাম রাখিল নাম 'রাখালরাজা-ভাই' ।।
'ননীচোরা' নাম রাখে যতেক গোপিনী।
'কালোসোনা' নাম রাখে রাধাবিনোদিনী ।।
চন্দ্রাবলী নাম রাখে 'মোহন-বংশীধারী'।
কুজা রাখিল নাম 'পতিতপাবন হরি' ।।
'অনন্ত' রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া ।
'কৃষ্ণ' নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া ।।
কন্বমুনি রাখে নাম 'দেব চক্রপাণি'।
'বনমালী' নাম রাখে বনের হরিণী ।।
গজরাজ নাম রাখে 'শ্রীমধুসূদন' ।
অজামিল নাম রাখে 'দেব নারায়ণ' ।।
পুরন্দর নাম রাখে 'দেব শ্রীগোবিন্দ'।
দ্রৌপদী রাখিল নাম 'দেব দীনবন্ধু' ।।
সুদামা রাখিল নাম 'দারিদ্র্যভঞ্জন'।
ব্রজবাসী নাম রাখে 'ব্রজের জীবন' ।।
'দর্পহারী' নাম রাখে অর্জুন সুধীর।
'পশুপতি' নাম রাখে গরুড় মহাবীর ।।
যুধিষ্ঠির নাম রাখে 'দেব যদুবর'।
বিদুর রাখিল নাম 'কাঙ্গালের ঠাকুর' ।।
বাসুকী রাখিল নাম 'দেব সৃষ্টি-স্থিতি'।
ধ্রুবলোকে নাম রাখে 'ধ্রুবের সারথী' ।।
নারদ রাখিল নাম 'ভক্তপ্রাণধন'।
ভীষ্মদেব নাম রাখে 'লক্ষ্মীনারায়ণ' ।।
সত্যভামা নাম রাখে 'সত্যের সারথী'।
জাম্ববতী নাম রাখে 'দেব যোদ্ধাপতি' ।।
বিশ্বামিত্র নাম রাখে 'সংসারের সার'।
অহল্যা রাখিল নাম 'পাষণ-উদ্ধার' ।।
ভৃগুমুনি নাম রাখে 'জগতের হরি'।
পঞ্চমুখে 'রাম'-নাম গান ত্রিপুরারি ।।
কুঞ্জকেশী নাম রাখে 'বলী সদাচারী'।
প্রহ্লাদ রাখিল নাম 'নৃসিংহ মুরারী' ।।
দৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্র্যভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ ।।
স্বরূপে সবার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুণ্ঠে বৈকুণ্ঠনাথ কমলার পতি ।।
বাসুদেব-প্রদ্যুম্নাদি-চতুর্ব্যূহ-সহ।
মহৈশ্বর্যপূর্ণ হ'য়ে বিহার করহ ।।
অনিরুদ্ধ সঙ্কর্ষণ নৃসিংহ বামন।
মৎস-কুর্ম-বরাহাদি অবতারগণ ।।
ক্ষীরোদকশায়ী হরি গর্ভোদবিহারী।
কারণসাগরে শক্তি মায়াতে সঞ্চারী ।।
বৃন্দাবনে কর লীলা ধরি গোপবেশ।
সে লীলার অন্ত প্রভু নাহি পায় 'শেষ' ।।
পূতনাবিনাশকারী শকটভঞ্জন।
তৃণাবর্ত-বক-কেশী-ধেনুক-মর্দন ।।
অঘারি গোবৎসহারী ব্রহ্মার মোহন ।
গিরিগোবর্ধনধারী অর্জুনভঞ্জন ।।
কালীয়দমনকারী যমুনাবিহারী ।
গোপীকুলবস্ত্রহারী শ্রীরাসবিহারী ।।
ইন্দ্রদর্পনাশকারী কুজামনোহারী।
চাণুর-কংসাদি-নাশী অক্রুরনিস্তারী ।।
নবীন-নীরদ-কান্তি শিশুগোপবেশ।
শিখিপুচ্ছবিভূষিত ব্রহ্ম-পরমেশ ।।
পীতাম্বর-বেণুধর শ্রীবৎসলাঞ্ছন ।
গোপগোপীপরিবৃত কমল-নয়ন ।।
বৃন্দাবন-বনচারী মদনমোহন ।
মথুরামণ্ডলচারী শ্রীযদুনন্দন ।।
সত্যভামাপ্রাণপতি রুক্মিণীরমণ।
প্রদ্যুম্নজনক শিশুপাল্যাদি-দমন ।।
উদ্ধবের গতিদাতা দ্বারকার পতি।
ত্রিভুবনপরিত্রাতা অখিলের গতি ।।
শাল্ব-দন্তবক্র নাশী মহিষীবিলাসী ।
সাধুজন-ত্রাণকর্তা ভূভার-বিনাশী ।।
পাণ্ডবের সখা কৃষ্ণ বিদুরের প্রভু।
ভীষ্মের উপাস্যদেব ভুবনের বিভু ।।
দেবের আরাধ্যদেব মুনিজনগতি।
যোগিধ্যেয়-পাদপদ্ম রাধিকার পতি ।।
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম ।।
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারক-ব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর ।।
কল্পতরু কমললোচন হৃষিকেশ।
পতিতপাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ ।।
চিন্তামণি চতুর্ভূজ দেব চক্রপাণি ।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি ।।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা ।।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার ।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার ।।
শতভার-সুবর্ণ-গো-কোটি-কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণনামের সমান ।।
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি ।।
শুন শুন ওরে ভাই নাম-সংকীর্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ-বিমোচন ।।
কৃষ্ণনাম ভজ জীব আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে ।।
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।।
ব্রহ্মা-আদি দেব যাঁরে ধ্যানে নাহি পায়।
সে-হরি-বঞ্চিত হ'লে কি হবে উপায় ।।
হিরণ্যকশিপুর করি উদর বিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ ।।
বলিরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ ।।
অষ্টোত্তরশত নাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধাকৃষ্ণের চরণ ।।
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ করে নন্দের নন্দন ।
মথুরায় কংসধ্বংস, লঙ্কায় রাবণ ।।
বকাসুরবধ আদি কালীয়দমন ।
দ্বিজ হরিদাস কহে নাম-সংকীর্তন ।।
কৃষ্ণচন্দ্র কর কৃপা করুণাসাগর ।।
জয় জয় গোবিন্দ গোপাল বনমালী ।
শ্রীরাধার প্রাণধন মুকুন্দ মুরারি ।।
হরিনাম বিনে রে গোবিন্দনাম বিনে ।
বিফলে মনুষ্য-জন্ম যায় দিনে দিনে ।।
দিন গেল মিছা কাজে রাত্রি গেল নিদ্রে।
না ভজিনু রাধাকৃষ্ণ-চরণারবিন্দে ।।
কৃষ্ণ ভজিবার তরে সংসারে আইনু।
মিছা-মায়ায় বদ্ধ হ'য়ে বৃক্ষসম হৈনু ।।
ফলরূপে পুত্র-কন্যা ডাল ভাঙ্গি' পড়ে।
কালরূপে সংসারেতে পক্ষী বাসা করে ।।
যখন কৃষ্ণ জন্ম নিল দৈবকী উদরে।
মথুরাতে দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে ।।
বসুদেব রাখি' আইল নন্দের মন্দিরে।
নন্দের আলয়ে কৃষ্ণ দিনে দিনে বাড়ে ।।
শ্রীনন্দ রাখিল নাম 'নন্দের নন্দন'।
যশোদা রাখিল নাম 'যাদু বাছাধন' ।।
উপানন্দ নাম রাখে 'সুন্দর গোপাল' ।
ব্রজবালক নাম রাখে 'ঠাকুর রাখাল' ।।
সুবল রাখিল নাম 'ঠাকুর কানাই'।
শ্রীদাম রাখিল নাম 'রাখালরাজা-ভাই' ।।
'ননীচোরা' নাম রাখে যতেক গোপিনী।
'কালোসোনা' নাম রাখে রাধাবিনোদিনী ।।
চন্দ্রাবলী নাম রাখে 'মোহন-বংশীধারী'।
কুজা রাখিল নাম 'পতিতপাবন হরি' ।।
'অনন্ত' রাখিল নাম অন্ত না পাইয়া ।
'কৃষ্ণ' নাম রাখে গর্গ ধ্যানেতে জানিয়া ।।
কন্বমুনি রাখে নাম 'দেব চক্রপাণি'।
'বনমালী' নাম রাখে বনের হরিণী ।।
গজরাজ নাম রাখে 'শ্রীমধুসূদন' ।
অজামিল নাম রাখে 'দেব নারায়ণ' ।।
পুরন্দর নাম রাখে 'দেব শ্রীগোবিন্দ'।
দ্রৌপদী রাখিল নাম 'দেব দীনবন্ধু' ।।
সুদামা রাখিল নাম 'দারিদ্র্যভঞ্জন'।
ব্রজবাসী নাম রাখে 'ব্রজের জীবন' ।।
'দর্পহারী' নাম রাখে অর্জুন সুধীর।
'পশুপতি' নাম রাখে গরুড় মহাবীর ।।
যুধিষ্ঠির নাম রাখে 'দেব যদুবর'।
বিদুর রাখিল নাম 'কাঙ্গালের ঠাকুর' ।।
বাসুকী রাখিল নাম 'দেব সৃষ্টি-স্থিতি'।
ধ্রুবলোকে নাম রাখে 'ধ্রুবের সারথী' ।।
নারদ রাখিল নাম 'ভক্তপ্রাণধন'।
ভীষ্মদেব নাম রাখে 'লক্ষ্মীনারায়ণ' ।।
সত্যভামা নাম রাখে 'সত্যের সারথী'।
জাম্ববতী নাম রাখে 'দেব যোদ্ধাপতি' ।।
বিশ্বামিত্র নাম রাখে 'সংসারের সার'।
অহল্যা রাখিল নাম 'পাষণ-উদ্ধার' ।।
ভৃগুমুনি নাম রাখে 'জগতের হরি'।
পঞ্চমুখে 'রাম'-নাম গান ত্রিপুরারি ।।
কুঞ্জকেশী নাম রাখে 'বলী সদাচারী'।
প্রহ্লাদ রাখিল নাম 'নৃসিংহ মুরারী' ।।
দৈত্যারি দ্বারকানাথ দারিদ্র্যভঞ্জন।
দয়াময় দ্রৌপদীর লজ্জা-নিবারণ ।।
স্বরূপে সবার হয় গোলোকেতে স্থিতি।
বৈকুণ্ঠে বৈকুণ্ঠনাথ কমলার পতি ।।
বাসুদেব-প্রদ্যুম্নাদি-চতুর্ব্যূহ-সহ।
মহৈশ্বর্যপূর্ণ হ'য়ে বিহার করহ ।।
অনিরুদ্ধ সঙ্কর্ষণ নৃসিংহ বামন।
মৎস-কুর্ম-বরাহাদি অবতারগণ ।।
ক্ষীরোদকশায়ী হরি গর্ভোদবিহারী।
কারণসাগরে শক্তি মায়াতে সঞ্চারী ।।
বৃন্দাবনে কর লীলা ধরি গোপবেশ।
সে লীলার অন্ত প্রভু নাহি পায় 'শেষ' ।।
পূতনাবিনাশকারী শকটভঞ্জন।
তৃণাবর্ত-বক-কেশী-ধেনুক-মর্দন ।।
অঘারি গোবৎসহারী ব্রহ্মার মোহন ।
গিরিগোবর্ধনধারী অর্জুনভঞ্জন ।।
কালীয়দমনকারী যমুনাবিহারী ।
গোপীকুলবস্ত্রহারী শ্রীরাসবিহারী ।।
ইন্দ্রদর্পনাশকারী কুজামনোহারী।
চাণুর-কংসাদি-নাশী অক্রুরনিস্তারী ।।
নবীন-নীরদ-কান্তি শিশুগোপবেশ।
শিখিপুচ্ছবিভূষিত ব্রহ্ম-পরমেশ ।।
পীতাম্বর-বেণুধর শ্রীবৎসলাঞ্ছন ।
গোপগোপীপরিবৃত কমল-নয়ন ।।
বৃন্দাবন-বনচারী মদনমোহন ।
মথুরামণ্ডলচারী শ্রীযদুনন্দন ।।
সত্যভামাপ্রাণপতি রুক্মিণীরমণ।
প্রদ্যুম্নজনক শিশুপাল্যাদি-দমন ।।
উদ্ধবের গতিদাতা দ্বারকার পতি।
ত্রিভুবনপরিত্রাতা অখিলের গতি ।।
শাল্ব-দন্তবক্র নাশী মহিষীবিলাসী ।
সাধুজন-ত্রাণকর্তা ভূভার-বিনাশী ।।
পাণ্ডবের সখা কৃষ্ণ বিদুরের প্রভু।
ভীষ্মের উপাস্যদেব ভুবনের বিভু ।।
দেবের আরাধ্যদেব মুনিজনগতি।
যোগিধ্যেয়-পাদপদ্ম রাধিকার পতি ।।
রসময় রসিক নাগর অনুপম।
নিকুঞ্জবিহারী হরি নবঘনশ্যাম ।।
শালগ্রাম দামোদর শ্রীপতি শ্রীধর।
তারক-ব্রহ্ম সনাতন পরম ঈশ্বর ।।
কল্পতরু কমললোচন হৃষিকেশ।
পতিতপাবন গুরু জ্ঞান-উপদেশ ।।
চিন্তামণি চতুর্ভূজ দেব চক্রপাণি ।
দীনবন্ধু দেবকীনন্দন যদুমণি ।।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম অনন্ত মহিমা।
নারদাদি ব্যাসদেব দিতে নারে সীমা ।।
নাম ভজ নাম চিন্ত নাম কর সার ।
অনন্ত কৃষ্ণের নাম মহিমা অপার ।।
শতভার-সুবর্ণ-গো-কোটি-কন্যাদান।
তথাপি না হয় কৃষ্ণনামের সমান ।।
যেই নাম সেই কৃষ্ণ ভজ নিষ্ঠা করি।
নামের সহিত আছেন আপনি শ্রীহরি ।।
শুন শুন ওরে ভাই নাম-সংকীর্তন।
যে নাম শ্রবণে হয় পাপ-বিমোচন ।।
কৃষ্ণনাম ভজ জীব আর সব মিছে।
পলাইতে পথ নাই যম আছে পিছে ।।
কৃষ্ণনাম হরিনাম বড়ই মধুর।
যেই জন কৃষ্ণ ভজে সে বড় চতুর।।
ব্রহ্মা-আদি দেব যাঁরে ধ্যানে নাহি পায়।
সে-হরি-বঞ্চিত হ'লে কি হবে উপায় ।।
হিরণ্যকশিপুর করি উদর বিদারণ।
প্রহ্লাদে করিলা রক্ষা দেব নারায়ণ ।।
বলিরে ছলিতে প্রভু হইলা বামন।
দ্রৌপদীর লজ্জা হরি কৈলা নিবারণ ।।
অষ্টোত্তরশত নাম যে করে পঠন।
অনায়াসে পায় রাধাকৃষ্ণের চরণ ।।
ভক্তবাঞ্ছা পূর্ণ করে নন্দের নন্দন ।
মথুরায় কংসধ্বংস, লঙ্কায় রাবণ ।।
বকাসুরবধ আদি কালীয়দমন ।
দ্বিজ হরিদাস কহে নাম-সংকীর্তন ।।
শ্রীকৃষ্ণের নামসমূহ (পদ থেকে সংগৃহীত তালিকা)
দ্বিজ হরিদাস রচিত এই সুদীর্ঘ সংকীর্তনটি থেকে শ্রীকৃষ্ণের বিভিন্ন নাম ও বিশেষণগুলো কোনো পুনরাবৃত্তি না করে নিচে ক্রমানুসারে তালিকাভুক্ত করা হলো। এখানে শ্রীকৃষ্ণের নিজস্ব নাম, লীলা-ভিত্তিক নাম এবং ভক্তদের দেওয়া প্রিয় ডাকগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
১. গোবিন্দ, ২. গোপাল, ৩. গদাধর, ৪. কৃষ্ণচন্দ্র, ৫. করুণাসাগর,
৬. বনমালী, ৭. মুকুন্দ, ৮. মুরারি, ৯. রাধাকৃষ্ণ, ১০. কৃষ্ণ,
১১. নন্দের নন্দন, ১২. যাদু বাছাধন, ১৩. সুন্দর গোপাল, ১৪. ঠাকুর রাখাল, ১৫. ঠাকুর কানাই,
১৬. রাখালরাজা, ১৭. ননীচোরা, ১৮. কালোসোনা, ১৯. মোহন-বংশীধারী, ২০. পতিতপাবন হরি,
২১. অনন্ত, ২২. দেব চক্রপাণি,২৩. শ্রীমধুসূদন, ২৪. দেব নারায়ণ, ২৫. দেব শ্রীগোবিন্দ,
২৬. দেব দীনবন্ধু, ২৭. দারিদ্র্যভঞ্জন, ২৮. ব্রজের জীবন, ২৯. দর্পহারী, ৩০. পশুপতি,
৩১. দেব যদুবর, ৩২. কাঙ্গালের ঠাকুর, ৩৩. দেব সৃষ্টি-স্থিতি, ৩৪. ধ্রুবের সারথী,৩৫. ভক্তপ্রাণধন,
৩৬. লক্ষ্মীনারায়ণ, ৩৭. সত্যের সারথী, ৩৮. দেব যোদ্ধাপতি, ৩৯. সংসারের সার, ৪০. পাষাণ-উদ্ধার,
৪১. জগতের হরি, ৪২. রাম, ৪৩. বলী সদাচারী, ৪৪. নৃসিংহ, ৪৫. দৈত্যারি,
৪৬. দ্বারকানাথ, ৪৭. দয়াময়, ৪৮. বৈকুণ্ঠনাথ, ৪৯. কমলার পতি, ৫০. বাসুদেব,
৫১. প্রদ্যুম্ন, ৫২. অনিরুদ্ধ, ৫৩. সঙ্কর্ষণ, ৫৪. বামন, ৫৫. মৎস,
৫৬. কুর্ম, ৫৭. বরাহ, ৫৮. ক্ষীরোদকশায়ী হরি, ৫৯. গর্ভোদবিহারী, ৬০. পুতনাবিনাশকারী,
৬১. শকটভঞ্জন, ৬২. তৃণাবর্ত-মর্দন, ৬৩. বক-মর্দন, ৬৪. কেশী-মর্দন, ৬৫. ধেনুক-মর্দন,
৬৬. অঘারি, ৬৭. গোবৎসহারী, ৬৮. ব্রহ্মার মোহন, ৬৯. গিরিগোবর্ধনধারী, ৭০. অর্জুনভঞ্জন,
৭১. কালীয়দমনকারী, ৭২. যমুনাবিহারী, ৭৩. গোপীকুলবস্ত্রহারী, ৭৪. শ্রীরাসবিহারী, ৭৫. ইন্দ্রদর্পনাশকারী,
৭৬. কুজামনোহারী, ৭৭. চাণুর-নাশী, ৭৮. কংস-নাশী, ৭৯. অক্রুরনিস্তারী, ৮০. ব্রহ্ম-পরমেশ,
৮১. পীতাম্বর, ৮২. বেণুধর, ৮৩. শ্রীবৎসলাঞ্ছন, ৮৪. কমল-নয়ন, ৮৫. বৃন্দাবন-বনচারী,
৮৬. মদনমোহন, ৮৭. মথুরামণ্ডলচারী, ৮৮. শ্রীযদুনন্দন, ৮৯. সত্যভামাপ্রাণপতি, ৯০. রুক্মিণীরমণ,
৯১. প্রদ্যুম্নজনক, ৯২. শিশুপাল্যাদি-দমন, ৯৩. উদ্ধবের গতিদাতা, ৯৪. দ্বারকার পতি, ৯৫. ত্রিভুবনপরিত্রাতা,
৯৬. অখিলের গতি, ৯৭. শাল্ব-নাশী, ৯৮. দন্তবক্র-নাশী, ৯৯. মহিষীবিলাসী, ১০০. সাধুজন-ত্রাণকর্তা,
১০১. ভূভার-বিনাশী, ১০২. পাণ্ডবের সখা, ১০৩. বিদুরের প্রভু, ১০৪. ভীষ্মের উপাস্যদেব,১০৫. ভুবনের বিভু,
১০৬. দেবের আরাধ্যদেব, ১০৭. মুনিজনগতি, ১০৮. রসময় রসিক নাগর, ১০৯. নিকুঞ্জবিহারী হরি, ১১০. নবঘনশ্যাম,
১১১. শালগ্রাম, ১১২. দামোদর, ১১৩. শ্রীপতি, ১১৪. শ্রীধর, ১১৫. তারক-ব্রহ্ম,
১১৬. সনাতন, ১১৭. পরম ঈশ্বর, ১১৮. কল্পতরু, ১১৯. কমললোচন, ১২০. হৃষিকেশ,
১২১. চিন্তামণি, ১২২. চতুর্ভূজ, ১২৩. যদুমণি।
৬. বনমালী, ৭. মুকুন্দ, ৮. মুরারি, ৯. রাধাকৃষ্ণ, ১০. কৃষ্ণ,
১১. নন্দের নন্দন, ১২. যাদু বাছাধন, ১৩. সুন্দর গোপাল, ১৪. ঠাকুর রাখাল, ১৫. ঠাকুর কানাই,
১৬. রাখালরাজা, ১৭. ননীচোরা, ১৮. কালোসোনা, ১৯. মোহন-বংশীধারী, ২০. পতিতপাবন হরি,
২১. অনন্ত, ২২. দেব চক্রপাণি,২৩. শ্রীমধুসূদন, ২৪. দেব নারায়ণ, ২৫. দেব শ্রীগোবিন্দ,
২৬. দেব দীনবন্ধু, ২৭. দারিদ্র্যভঞ্জন, ২৮. ব্রজের জীবন, ২৯. দর্পহারী, ৩০. পশুপতি,
৩১. দেব যদুবর, ৩২. কাঙ্গালের ঠাকুর, ৩৩. দেব সৃষ্টি-স্থিতি, ৩৪. ধ্রুবের সারথী,৩৫. ভক্তপ্রাণধন,
৩৬. লক্ষ্মীনারায়ণ, ৩৭. সত্যের সারথী, ৩৮. দেব যোদ্ধাপতি, ৩৯. সংসারের সার, ৪০. পাষাণ-উদ্ধার,
৪১. জগতের হরি, ৪২. রাম, ৪৩. বলী সদাচারী, ৪৪. নৃসিংহ, ৪৫. দৈত্যারি,
৪৬. দ্বারকানাথ, ৪৭. দয়াময়, ৪৮. বৈকুণ্ঠনাথ, ৪৯. কমলার পতি, ৫০. বাসুদেব,
৫১. প্রদ্যুম্ন, ৫২. অনিরুদ্ধ, ৫৩. সঙ্কর্ষণ, ৫৪. বামন, ৫৫. মৎস,
৫৬. কুর্ম, ৫৭. বরাহ, ৫৮. ক্ষীরোদকশায়ী হরি, ৫৯. গর্ভোদবিহারী, ৬০. পুতনাবিনাশকারী,
৬১. শকটভঞ্জন, ৬২. তৃণাবর্ত-মর্দন, ৬৩. বক-মর্দন, ৬৪. কেশী-মর্দন, ৬৫. ধেনুক-মর্দন,
৬৬. অঘারি, ৬৭. গোবৎসহারী, ৬৮. ব্রহ্মার মোহন, ৬৯. গিরিগোবর্ধনধারী, ৭০. অর্জুনভঞ্জন,
৭১. কালীয়দমনকারী, ৭২. যমুনাবিহারী, ৭৩. গোপীকুলবস্ত্রহারী, ৭৪. শ্রীরাসবিহারী, ৭৫. ইন্দ্রদর্পনাশকারী,
৭৬. কুজামনোহারী, ৭৭. চাণুর-নাশী, ৭৮. কংস-নাশী, ৭৯. অক্রুরনিস্তারী, ৮০. ব্রহ্ম-পরমেশ,
৮১. পীতাম্বর, ৮২. বেণুধর, ৮৩. শ্রীবৎসলাঞ্ছন, ৮৪. কমল-নয়ন, ৮৫. বৃন্দাবন-বনচারী,
৮৬. মদনমোহন, ৮৭. মথুরামণ্ডলচারী, ৮৮. শ্রীযদুনন্দন, ৮৯. সত্যভামাপ্রাণপতি, ৯০. রুক্মিণীরমণ,
৯১. প্রদ্যুম্নজনক, ৯২. শিশুপাল্যাদি-দমন, ৯৩. উদ্ধবের গতিদাতা, ৯৪. দ্বারকার পতি, ৯৫. ত্রিভুবনপরিত্রাতা,
৯৬. অখিলের গতি, ৯৭. শাল্ব-নাশী, ৯৮. দন্তবক্র-নাশী, ৯৯. মহিষীবিলাসী, ১০০. সাধুজন-ত্রাণকর্তা,
১০১. ভূভার-বিনাশী, ১০২. পাণ্ডবের সখা, ১০৩. বিদুরের প্রভু, ১০৪. ভীষ্মের উপাস্যদেব,১০৫. ভুবনের বিভু,
১০৬. দেবের আরাধ্যদেব, ১০৭. মুনিজনগতি, ১০৮. রসময় রসিক নাগর, ১০৯. নিকুঞ্জবিহারী হরি, ১১০. নবঘনশ্যাম,
১১১. শালগ্রাম, ১১২. দামোদর, ১১৩. শ্রীপতি, ১১৪. শ্রীধর, ১১৫. তারক-ব্রহ্ম,
১১৬. সনাতন, ১১৭. পরম ঈশ্বর, ১১৮. কল্পতরু, ১১৯. কমললোচন, ১২০. হৃষিকেশ,
১২১. চিন্তামণি, ১২২. চতুর্ভূজ, ১২৩. যদুমণি।
সংকীর্তনটিতে যদিও ১০৮টি নামের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ পদে কৃষ্ণের বিভিন্ন লীলা ও সম্পর্কের প্রেক্ষিতে নামের সংখ্যা ১০৮ অতিক্রম করে অনেক বেশি হয়েছে।
পরবর্তী পেজ বা অংশে আমরা সেই সময়কে ফিরে দেখার চেষ্টা করব যে সময় প্রায় পাঁচশ বছর আগে অধুনা কলকাতার শহরের উপকণ্ঠে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার শ্রীপাট খড়দহতে শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু নাম সংকীর্তন প্রচারের জন্য নামহট্টের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তার পুত্র শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বিতীয় প্রকাশ শ্রী বীরভদ্র গোস্বামীর সুযোগ্য পরিচালনায় যার প্রচার ও প্রসার ঘটেছিল সেই নাম সংকীর্তন আন্দোলনে দ্বিজ হরিদাস রচিত এই শ্রীকৃষ্ণের অষ্টতর শতনাম কীর্তনের ভূমিকা এবং এই কীর্তনের মধ্যে মানব জন্মের সার্থকতা ও কৃষ্ণ ভক্তি ও শরণাগতির যে অমূল্য রত্ন মালা দেওয়া রয়েছে, এবং কিভাবে এই কীর্তন বাংলার গৌড়ীয় বৈষ্ণব পরম্পরার এক জীবন্ত লোকসংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে উঠেছে সেই ইতিহাস সম্পর্কেও আলোচনা করব।